এম এম হারুন আল রশীদ হীরা মান্দা (নওগাঁ)
দীর্ঘ প্রায় তিন দশকেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গাড়ীক্ষেত্র ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা। তীব্র আর্থিক সঙ্কট ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার অভাব ও চরম অবহেলায় সুনামধন্য এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অনেকটাই প্রাণহীন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাদরাসাটি ওই অঞ্চলের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তির আওতায় আসেনি। ফলে এখানকার শিক্ষকরা চরম মানবিক ও আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। তাই বিগত একটানা ২৭ বছর ধরে বেতনহীন শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত পর ২০০২ সালে প্রথম স্বীকৃতি লাভ করে এবং ২০০৪ সাল থেকে শিক্ষার্থীরা দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তারা দীর্ঘদিন নিয়মিত বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত। অনেক শিক্ষক জীবিকার তাগিদে পাঠদানের পাশাপাশি দর্জি, দিনমজুরি, কৃষি কাজ ও ছোটখাটো ব্যবসা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
শিক্ষানুরাগী আবদুল আলিম, আবদুল জব্বার মণ্ডল, খয়বর আলী, মকবুল হোসেন, পরিজান বেওয়া সহ ১৭ জন দাতা ও শিক্ষানুরাগীদের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়। প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু সুদৃষ্টি কামনা করেন। স্থানীয়রা জানান, শিক্ষকরা চরম আর্থিক অনটনের মাঝেও ২৬-২৭ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে পাঠদান করে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মাদরাসার সভাপতি আনেয়ারুল ইসলাম বলেন, আ’লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে প্রতিষ্ঠানটি বঞ্চিত হয়েছে। মাদরাসার সুপার লোকমান হোসেন বলেন, গাড়িক্ষেত্র এলাকার বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরামগণ, সুধীগণ, গুণীজন, দাতাগণ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সবসাধারণের সাবিক সহযোগিতায় মাদরাসাটি গড়ে উঠেছে। উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার আবদুল লতিফ বলেন, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে। তারা এমপিওভুক্তির জন্য চেষ্টা করছে। আশা করি খুব দ্রুত ইতিবাচক সমাধান হবে। ইউএনও আকতার জাহান সাথী বলেন, তারা যদি এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।



