নিজস্ব প্রতিবেদক
গণপূর্ত অধিদফতরে কর্মরত ৭০৭ উপসহকারী প্রকৌশলীকে (সিভিল) লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে। এ সময় গোপালগঞ্জের এক প্রকৌশলীকে বদলি করে এনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনসহ কি পয়েন্ট ইন্সটলেশন (কেপিআই) বা রাষ্ট্রীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দায়িত্বে সংযুক্ত করা হয়েছে। নিমিতোষ ওঝা নামের ওই প্রকৌশলী বঙ্গবন্ধু পরিষদের সক্রিয় সদস্য।
জানা গেছে, ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ছিলেন নিমিতোষ ওঝা। এখন তাকে গণপূর্ত রক্ষণাবেকাষণ উপবিভাগ-২, ঢাকা শাখা-১ এ সংযুক্ত করা হয়েছে। এ বিভাগের অধীনেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাসভবন রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন উপসহকারী প্রকৌশলী বলেন, ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ কর্মকর্তাকে ঢাকা বিভাগেই বহাল রাখা হয়েছে, অন্য দিকে রংপুরসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ বিভাগেই রাখা হয়েছে। এতে বদলি নীতিমালার সমতা ও ভারসাম্যের নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তাদের ভাষ্য, রাজধানীতে কর্মরত কর্মকর্তারা এমনিতেই সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে তুলনামূলক সুবিধাপ্রাপ্ত; এর পরও তাদের একই এলাকায় রাখার মাধ্যমে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে।
এ ছাড়াও কোনো ধরনের সুস্পষ্ট বদলি নীতিমালা অনুসরণ না করে লটারির মাধ্যমে এই বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা মাত্র এক মাস, দুই মাস, চার মাস, ছয় মাস আগে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করলেও তাদেরকে আবারো বদলি করা হয়েছে। একই বিভাগ বা সার্কেলে একযোগে নতুন কর্মকর্তাদের পদায়ন করায় চলমান নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হবে।
বদলিকৃত একাধিক কর্মকর্তা জানান, মাত্র কয়েক মাস আগে তারা পরিবার নিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। সন্তানদের নতুন স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন এবং নতুন পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিলেন। এমন সময় আকস্মিক বদলির সিদ্ধান্ত তাদের পারিবারিক জীবনে বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি করেছে। বদলির আগে ব্যক্তিগত সমস্যা, চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন কিংবা সন্তানদের শিক্ষার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।



