ট্রিপল সেঞ্চুরি করে ইতিহাসে হৃদয়

Printed Edition
৩০০ রান করার পর তৌহিদ হৃদয় : বিসিবি
৩০০ রান করার পর তৌহিদ হৃদয় : বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পচেফস্ট্রুমে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন তৌহিদ হৃদয়। সেই মাঠেই ‘এ’ দলের হয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন মিডলঅর্ডার এই ব্যাটার। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন গত পরশুই। আর সেটিকে গতকাল ট্রিপল সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন তিনি। চার দিনের ম্যাচে ক্যারিয়ারের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি এটি ২৬ বছর বয়সী ব্যাটারের। ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ৩৫০ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়। আর ততক্ষণে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ‘এ’ দল ৮ উইকেটে ৬৭৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে।

বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশী ব্যাটারের এটিই প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি। একই সাথে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে ৩০০ পেরোলেন হৃদয়। এর আগে এই কীর্তি ছিল রাকিবুল হাসান ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের। ২০০৬-০৭ মৌসুমে বরিশাল বিভাগের হয়ে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে রাকিবুল করেছিলেন ৩১৩ রান। এরপর ২০১৯-২০ মৌসুমে বিসিএলে ইস্ট জোনের হয়ে তামিমের ব্যাট থেকে আসে ৩৩৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। তবে দেশের বাইরে ৩০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করার কৃতিত্ব আগে কোনো বাংলাদেশী ব্যাটারের ছিল না। ফলে হৃদয়ের এই ইনিংস বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের ইতিহাসে আলাদা মর্যাদা পেয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেও হৃদয়ের এই ইনিংস ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। স্বীকৃত প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকায় কোনো বিদেশী ব্যাটারের দ্বিতীয় ট্রিপল সেঞ্চুরি এটি। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে হৃদয়ের আগে একমাত্র বিদেশী ক্রিকেটার হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ব্যাটার ডেনিস কম্পটন, যা তিনি করেছিলেন ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে। ট্রিপল সেঞ্চুরির পথে হৃদয় ভেঙেছেন বাংলাদেশের ‘এ’ দলের হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডও। এত দিন এই রেকর্ড ছিল শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুতের। ২০০৩ সালে করাচিতে ডিফেন্স হাউজিং কমিটির বিপক্ষে ২১৮ রান করেছিলেন এই ওপেনার।

দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের প্রথম ইনিংসে করা ৫১২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে চাপের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারানোর পর দলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক হৃদয়। শুরুতে পরিস্থিতি সামলে ইনিংস গড়েন। এরপর সময়ের সাথে সাথে আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। প্রতিপক্ষ বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের বিপরীতে তিনি দেখান অসাধারণ ধৈর্য, টেকনিক ও মানসিক দৃঢ়তা।

তৃতীয় দিনের শেষেই প্রথম শ্রেণীর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছিলেন হৃদয়। চতুর্থ দিনে ব্যাট হাতে নামার পর থেকেই চোখ ছিল আরো বড় মাইলফলকে। তবে ৩০০ রানে পৌঁছানোর পথটি সহজ ছিল না। ২৮৮ রানে থাকার সময় দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের অধিনায়ক মার্কেস অ্যাকারম্যান নতুন বল নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নতুন বলে বোলাররা চাপ বাড়লেও অসাধারণ সংযমে সেই চ্যালেঞ্জ সামাল দেন হৃদয়। অবশেষে ১৮২তম ওভারে দুই রান নিয়ে ট্রিপল সেঞ্চুরির স্বপ্ন পূরণ করেন হৃদয়।

হৃদয়ের ইতিহাস গড়ায় দারুণ ভূমিকা রেখেছেন ১০ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা রেজাউর রহমান রাজা। বাংলাদেশ যখন অষ্টম উইকেট হারায়, হৃদয়ের নামের পাশে তখন ২২৫ রান। সেখান থেকে রাজার দারুণ সঙ্গ পেয়ে ৪৫১ বলে ৩০০ রান পূর্ব করেন হৃদয়। শেষ পর্যন্ত হৃদয় ৩৫০ ও ৩১ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন রেজাউর রহমান।