জাজিরায় ২ পক্ষের সংঘর্ষ, ককটেল বোমায় বিএনপিকর্মী নিহত

নেপথ্যে রাজনৈতিক ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার

Printed Edition

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মুলনা ইউনিয়নে রাজনৈতিক ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ককটেল বোমার আঘাতে মান্নান সরদার (৭৫) নামে এক বিএনপিকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনের ডান হাতের কব্জি বিচ্ছিন্নসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার রাতে উপজেলার লাউখোলা গজনাইপুর এলাকায় এই সংঘর্ষ ঘটে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

জাজিরা থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মুলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শিকদার ও তার সমর্থকদের সাথে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সদস্য তমিজ খাঁর সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছে। এর জেরে সোমবার সন্ধ্যায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় অর্ধশতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সংঘর্ষে রেজাউল শিকদারের সমর্থক মান্নান সরদার ককটেল বোমার আঘাতে গুরুতর আহত হলে তাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান। সংঘর্ষে তমিজ খাঁর সমর্থক রিপন মোল্লা (৩৫) বোমার আঘাতে ডান হাতের কব্জি হারান।

মুলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শিকদারের অভিযোগ, রোববার তাদের কর্মী মোশারফ চৌকিদারকে পথরোধ করে মারধরের পর তমিজ খাঁর সমর্থকরা ককটেল বোমা ফাটিয়ে বিএনপি সমর্থক রাসেলের বাড়িঘর ভাঙচুর করে, এর জেরে মান্নান সরদার নিহত হন। তিনি এই হত্যার জন্য তমিজ খাঁর শাস্তি দাবি করেন। জাজিরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ সিকদার বলেন, নিহত মান্নান সরদার তাদের দলীয় কর্মী ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তমিজ খাঁর নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রয়েছে, যা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে।

তমিজ খাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও স্থানীয় বিএনপিতে মতভেদ রয়েছে। দলের একাংশের দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে উপজেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহেদ সরদারের মাধ্যমে তমিজ খাঁ বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনী কাজে অংশ নেন। তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ সিকদার তার বিএনপিতে যোগদানের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, নির্বাচনের সময় নিজেকে রক্ষার জন্য তমিজ খাঁ বিএনপি, স্বতন্ত্র ও জামায়াতের পক্ষে কাজ করেছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তমিজ খাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহাম্মদ বলেন, স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সংঘর্ষে জড়িতদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।