ক্রীড়া প্রতিবেদক
ল্যাটিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া। আর ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ড। দুই মহাদেশের দুই দেশের আজ কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই। দুই দলই প্রথম নকআউট পর্বে নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়ে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার এই লড়াইয়ে উত্তেজনার কমতি থাকার সুযোগ নেই। সুইজারল্যান্ড শেষ ষোলোর আগের ম্যাচে আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে। পুরো ম্যাচজুড়ে তারা ছিল সংগঠিত, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং কার্যকর। বল দখল থেকে শুরু করে রক্ষণ ও আক্রমণের ভারসাম্য- সবকিছুতেই ইউরোপীয় দলটি নিজেদের পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। অন্য দিকে কলম্বিয়া শেষ বত্রিশে ঘানার বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের পর ১-০ গোলের জয় তুলে নেয়। ম্যাচটি সহজ না হলেও ধৈর্য ধরে সুযোগের অপেক্ষা করে তারা জয় নিশ্চিত করে।
সুইজারল্যান্ড দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের সমষ্টিগত ফুটবল। নির্দিষ্ট কোনো তারকার ওপর নির্ভর না করে পুরো দল এক সাথে খেলতে পারে, যা নকআউট ম্যাচে বড় সুবিধা এনে দেয়। কলম্বিয়ার খেলায় সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তাদের গতি এবং মাঝমাঠের আগ্রাসী প্রেসিং। প্রতিপক্ষের ভুল থেকে সুযোগ তৈরি করতে তারা দারুণ দক্ষ।
সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগ এই টুর্নামেন্টে বেশ শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের সমন্বয় প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে কলম্বিয়ার দ্রুতগতির উইঙ্গার এবং ফরোয়ার্ডদের সামলাতে তাদের সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। বিশেষ করে ডান ও বাম প্রান্ত থেকে আসা আক্রমণ ঠেকানো সুইসদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
ব্যক্তিগত লড়াইও এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সুইজারল্যান্ডের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ও আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে গ্রানিত জাকা ও রেমো ফ্রয়লারকে সতর্ক থাকতে হবে কলম্বিয়ার ডিফেন্সকে। একইভাবে কলম্বিয়ার সৃজনশীল মিডফিল্ড এবং দ্রুতগতির ফরোয়ার্ডদের আটকে রাখতে সুইস রক্ষণকে নিখুঁত সমন্বয় দেখাতে হবে। তবে এই ম্যাচে স্ট্রাইকার জন কর্ডোবাকে পাচ্ছে না তারা। কারণ ঘানার বিপক্ষে লস কাফেতেরোসের রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচের শুরুর দিকে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগার কারণে বিশ্বকাপের বাকি অংশ থেকে ছিটকে গেছেন তিনি। তবে স্পোর্টিং লিসবনের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ কর্ডোবার বদলি নেমে জয়সূচক গোলে সহায়তা করেছিলেন। তাই আজকের ম্যাচে তাকে প্রথম একাদশে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।
কলম্বিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে সুইজারল্যান্ডের বল দখলের কৌশল ভাঙা। ইউরোপীয় দলটি যদি মাঝমাঠে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে দক্ষিণ আমেরিকার দলটির জন্য সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে যাবে। সে কারণে শুরু থেকেই উচ্চ প্রেসিং করে ম্যাচের গতি নিজেদের পক্ষে নেয়ার চেষ্টা করবে কলম্বিয়া।
অভিজ্ঞতার বিচারে দুই দলের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সুইজারল্যান্ড নিয়মিত খেললেও বড় মঞ্চে নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রমাণ দিয়েছে কলম্বিয়াও। ফিটনেস ও শৃঙ্খলার দিক থেকে সুইজারল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে থাকলেও গতি এবং আক্রমণভাগের সৃজনশীলতা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে কলম্বিয়া।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে কলম্বিয়া। দুই দলের মুখোমুখি চারবার লড়াইয়ে দু’টিতে জয় ল্যাটিন দেশটির। একটি জয় ইউরোপের দেশের আর অপর ম্যাচটি হয়েছিল ড। দুই দলের প্রতিযোগিতামূলক সাক্ষাৎটি হয়েছিল ১৯৯৪ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে। যেখানে সুইজারল্যান্ডকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছিল কলম্বিয়া। চলতি বছর মার্চে সবশেষ মোকাবেলায়ও ৩-১ গোলের জয় ছিল কলম্বিয়ার।



