পশ্চিমতীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা

ব্রিটেন নিষেধাজ্ঞা দিলে পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি ইসরাইলের

Printed Edition

দ্য গার্ডিয়ান

পশ্চিমতীরে ইসরাইলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনার জবাবে ব্রিটেনের কঠোর অবস্থানের জেরে কূটনৈতিক সম্পর্কে তীব্র টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। বসতি নির্মাণের বিরুদ্ধে লন্ডন নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করায় পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছে ইসরাইল।

ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার গত মঙ্গলবার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ব্রিটেন যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তবে ইসরাইলও সমপরিমাণ পাল্টা পদক্ষেপ নেবে। ব্রিটেনের এমন যেকোনো সিদ্ধান্তকে ‘বড় ধরনের ভুল’ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। এর আগে ব্রিটিশ সরকার ইঙ্গিত দেয়, পশ্চিমতীরের ইসরাইলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্য বর্জন ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরাইল নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পশ্চিমতীরের প্রস্তাবিত ‘ই-১’ বসতি প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমতীরের ভৌগোলিক অখণ্ডতা নষ্ট হবে এবং একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ব্রিটেন। হাউজ অব কমন্সে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, আগামী অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের আগেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ই-১ প্রকল্পের দরপত্র চূড়ান্ত করতে পারেন। আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ এই বসতি গড়ে উঠলে পূর্ব জেরুসালেম থেকে পশ্চিমতীর কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, যা দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে চিরতরে বিনষ্ট করবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড স্পষ্ট জানান, ই-১ প্রকল্পের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নীতির ‘লাল সীমা’ অতিক্রম করছে ইসরাইল। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় পশ্চিমতীরের অবৈধ বসতিতে ব্রিটিশ কোনো প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন, নির্মাণকাজে অংশগ্রহণ কিংবা বিজ্ঞাপন দেয়ার সুযোগ বন্ধের আইনি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।