নিজস্ব প্রতিবেদক
পুঁজিবাজারে তারল্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমানো এবং লেনদেন আরো গতিশীল করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে স্ক্রিপ্ট নেটিং ও ইন্ট্রাডে ট্রেডিং চালুর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সমন্বিত পরিষদ (বিসিএমআইইউএ)।
গতকাল বিএসইসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আনম আবদুল্লাহ শহীদ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শেখ আজিজুর রহমান। সভা শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে ৬ দফা দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি দেয়া হয়।
সংগঠনটির দাবির মধ্যে রয়েছে, বর্তমানে শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে সেটেলমেন্ট সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত একই অর্থ দিয়ে পুনরায় লেনদেন করা যায় না। ফলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আটকে থাকে এবং বাজারে তারল্য সঙ্কট তৈরি হয়। এ অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত পুঁজিবাজারের মতো বাংলাদেশেও স্ক্রিপ্ট নেটিং ও ইন্ট্রাডে ট্রেডিং চালু করলে লেনদেন বাড়বে, বাজারে গতি ফিরবে এবং বিনিয়োগকারীরা আরো কার্যকরভাবে বিনিয়োগ পরিচালনা করতে পারবেন।
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কেনা বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বন্ধক রেখে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে আরো কার্যকর তদারকি প্রয়োজন। একইসাথে বিএসইসির মিউচ্যুয়াল ফান্ড সংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট হারে ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) রাখার বিধান বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া সংগঠনটি অভিযোগ করে, তালিকাভুক্ত অনেক ব্যাংকের শেয়ার কিনে দীর্ঘ সময় ধরে লোকসানের মুখে পড়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এ কারণে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা, খেলাপি ঋণ এবং পরিচালনাগত তথ্য আরো স্বচ্ছভাবে প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়, কিছু কোম্পানি অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে, যা বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করে এবং ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। এ ধরনের অনিয়ম রোধে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সমন্বিত পরিষদ মনে করে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে বাজারে তারল্য বাড়বে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে এবং দেশের পুঁজিবাজার আরো স্থিতিশীল ও কার্যকর হবে।



