এ জে এম আহছানুজ্জামান ফিরোজ শ্রীবরদী (শেরপুর)
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর শহর থেকে শুরু করে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় সহজেই মিলছে মাদক। এতে তরুণ ও শিার্থীদের একটি অংশ বিপথে যাচ্ছে, বাড়ছে সামাজিক অপরাধও।
স্থানীয় বাসিন্দা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার ও সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে খামারিয়াপাড়া, টিএনটি সড়ক, সরকারি কলেজসংলগ্ন এলাকা, মুন্সিপাড়া, পোড়াগড় সেতু এলাকা এবং গিলেগাছা ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে প্রকাশ্যে মাদক লেনদেন হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তঘেঁষা বালিজুরী, খাড়ামোড়া, রাঙ্গাজান, কোচপাড়া ও হারিয়াকোনা এলাকাতেও মাদকের বিস্তার ঘটছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পুলিশ ও বিজিবি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদকসেবী ও খুচরা কারবারিদের আটক করলেও মূল হোতাদের অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এর ফলে মাদক কারবার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। তাদের দাবি, মাদক সরবরাহের মূল নেটওয়ার্ক ভাঙতে না পারলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।
শ্রীবরদী পৌর শহরের বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, কিছু এলাকায় মাদকসেবী ও কারবারির সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব পরিবার ও সমাজে পড়ছে। অনেক শিার্থীও মাদকের কারণে পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ছে। মুন্সিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাকিব হোসেন বলেন, মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় যুবসমাজ ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে।
মাদকবিরোধী সংগঠন শ্রীবরদী ড্রাগ কন্ট্রোল কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জুবাইদুল ইসলাম রাজন বলেন, তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মাদকের প্রভাব অনেকটা কমানো সম্ভব।
ব্যারিস্টার শাহাদাত হোসেন জিকো বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর পে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
শ্রীবরদী থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং মাদকসংশ্লিষ্ট কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তিনি মাদকবিরোধী অভিযানে স্থানীয় জনগণকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এদিকে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেলও মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়ে প্রশাসনকে অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন।



