ভ্যাঙ্কুভার থেকে টরেন্টো। অটোয়া থেকে মন্ট্রিল। কারো চোখ টিভি পর্দায়। কেউবা মোবাাইলে কেউবা বিশাল স্ক্রিনে দেখছিলেন খেলা। এই কানাডিয়ানদের একটাই ছিল প্রত্যাশা। বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের দেখা পাক উত্তর আমেরিকার সর্ব উত্তরের দেশটি। সেই জয় তারা পায়নি। তবে প্রথমবারের মতো নিজ দেশে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলে একেবারে হতাশ হতে হয়নি তাদের। পিছিয়ে পড়েও ১-১ গোলে ড্র করেছে বসনিয়া হার্জেগোভিনার সাথে। ৭৮ মিনিটে কাইলে লারিনের করা এই গোলই ইতিহাসের পাতায় নিয়ে গেছে দেশটির ফুটবলকে। বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম যে পয়েন্টের দেখা পেল কানাডা, যা একই সাথে ‘বি’ গ্রুপ থেকে নক আউটে খেলার আশা জিইয়ে রেখেছে। তবে এখনো বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের অপেক্ষায় থাকতেই হচ্ছে তাদের।
এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলা কানাডার। কনকাকাফ অঞ্চলের এই দেশটির প্রথম বিশ্বকাপে খেলা ১৯৮৬ সালে। এরপর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে। তবে কোনো আসরেই তাদের পক্ষে ড্রটিও করা সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ দুই বিশ্বকাপের ছয় ম্যাচের প্রত্যেকটিতেই হার। প্রথমবার মেক্সিকোতে। পরেরবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশে। গত রাতে সেই হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এলো তারা। পিছিয়ে পড়েও ম্যাচটি ড্র করেছে।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই তাদের হার ছিল ফ্রান্সের কাছে। ০-১ ছিল ম্যাচটির স্কোর লাইন। এরপর হাঙ্গেরির কাছে ০-২ এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে একই ব্যবধানে হার। কাতার বিশ্বকাপে তাদের দারুণ সুযোগ ছিল জয়ের। সেটি সম্ভব না হলেও অন্তত পয়েন্টের দেখা মিলতো আরবের মাটিতে। কিন্তু বেলজিয়ামের বিপক্ষে কানাডার ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা আলফানসো ডেভিসের পেনাল্টি মিসই সর্বনাশ করে। তার শট রুখে দিয়েছিলেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক কর্তোয়া। এরপর বেলজিয়াম একটি গোল দিয়ে জিতে নেয় ম্যাচ। ওই ধাক্কা সামলিয়ে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিবেশী দেশটির পক্ষে। পরের দুই ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ১-৪ এবং মরক্কোর কাছে ১-২ গোলে হেরে বিদায় নেয়া।
বসনিয়ার বিপক্ষে হয়তো ম্যাচটি জিতেই যেতে পারত। গোল মিস এবং বসনিয়ার গোলরক্ষকের প্রতিরোধ তিন পয়েন্ট পেতে দেয়নি তাদের। এতেও অবশ্য হয়তো তারা অতোটা কষ্ট পায়নি। কারণ পিছিয়ে পড়ে ড্র করাও অনেকসময় জয়ের আনন্দ বয়ে আনে। যুক্তরাষ্ট্রের টিভি চ্যানেল ফক্স স্পোর্টসে কানাডার বিভিন্ন স্থানে দেশটির ফুটবলপ্রেমীদের ম্যাচ শেষে উল্লাস দেখিয়েছে। তাতে মনে হয় বিশ্বকাপে পাওয়া প্রথম ড্রতেই আপাতত খুশি তারা।
জিততে না পারলেও যেকোনো টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে অপরাাজিত থাকাটাও সামনে এগোনোর বড় শক্তি। কানাডার পরের ম্যাচ ১৮ জুন কাতার ও ২৪ জুন সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। ওউ দুই মাচে জয়ের দেখা পেলে প্রথমবারের মতো নক আউটে খেলা দেখা যাবে তাদের।
ফিফা র্যাংকিংয়ে ৩০-এ অবস্থান করা কানাডার আন্তর্জাতিক ফুটবলে সাফল্য বলতে দুইবার কনকাকাফ গোল্ডকাপ জয়। তা ১৯৮৫ ও ২০০০ সালে। এই আসরে মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান এবং দক্ষিণ আমেরিকার গায়ানা, বেলিজ, সুরিনামরা খেলে। সুতরাং তদের এখন বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের দেখা পাওয়াটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে তা কি এবার হবে। না কি এক ড্র নিয়েই শেষ করতে হবে আসর।
ম্যাচে জিততে পারত বসনিয়াও। ১৮ মিনিটে লুকিচের হেডের গোলে তারা এগিয়ে যায়। কর্নার থেকে আসা বলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথম গোল তার। এরপর ৫৪ মিনিটে ডেমিরোভিচ কানাডার গোলরক্ষককে একা পেয়েও পারেননি গোল করতে। ৫৮ মিনিটে মোহারোভিচের হেড যায় বার ঘেঁষে। এরপর কয়েকটি চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডার বদলি ফুটবলার লারিন সমতা আনেন। মূলত বিরতির পর কানাডার কোচ মাঠে নামান, আহমেদ, লারিন ও ডেভিডদের। বিশেষ করে আহমেদ নামার পরই পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। দারুণ স্কিলফুল ফুটবলার তিনি।



