সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের ফ্ল্যাট থেকে বিলাসসামগ্রী উদ্ধার

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের দু’টি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল বিলাসবহুল সামগ্রী উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক জানায়, অভিযানে ফ্ল্যাট থেকে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, আটটি ঘড়ির বক্স (এর মধ্যে রোলেক্সের চারটি), তিন সেট মুক্তার (পার্ল) গয়না, দামি গাড়ির চাবি, চারটি ঝাড়বাতি, একটি বেড, একটি সোফা এবং প্রায় ১০০টি কামিজ উদ্ধার করা হয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, আদালতের নির্দেশে রোববার দু’টি ফ্ল্যাটের মালামাল ক্রোক করতে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

গণ-অভ্যুত্থানে পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে। ইউসিবি ব্যাংকের মালিকানায় ছিল তার পরিবার। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে আবাসন ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন তিনি। সরকারের পতনের পর যুক্তরাজ্যে সাইফুজ্জামানসহ আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ নেতা-মন্ত্রীদের সম্পদের অনুসন্ধান হয়। এতে যুক্তরাজ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর তিন শতাধিক প্রোপার্টির (বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট) সন্ধান পাওয়া যায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের খবর অনুযায়ী, এসব সম্পদের মূল্য ১৭ কোটি পাউন্ড।

ঢাকার গুলশানের ৬৬ নম্বর সড়কের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটে সাইফুজ্জামানের দু’টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর মধ্যে এ-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন তিন হাজার ৭৪৭ বর্গফুট এবং বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন তিন হাজার ৮৩২ বর্গফুট।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরে নভেম্বরে এই ফ্ল্যাট দু’টি ক্রোকের আদেশ দেয় ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত। আদেশে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে ফ্ল্যাট দু’টির নিয়ন্ত্রণে নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়। তবে এগুলো তালাবন্ধ থাকার কারণে তিনি সেখানে ঢুকতে পারছিলেন না। পরে দুদকের আরেকটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ এপ্রিল তালা খুলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ওই ফ্ল্যাট দু’টিতে প্রবেশ ও মালামালের তালিকা তৈরির অনুমতি দেন আদালত।

সে অনুযায়ী, গতকাল অভিযান চালায় দুদক।

একটি রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঘড়িটি ১৮ ক্যারেট হোয়াইট গোল্ডের (মডেল-৫০৫১৯)। ঘড়িটি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি কেনা হয়। ঘড়ির মালিক হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নাম উল্লেখ রয়েছে। এই ঘড়ির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশী টাকায় যার মূল্য ২০ লাখ টাকার বেশি।

দুদকের কর্মকর্তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে বিভিন্ন মালামাল ও নথিপত্রের তালিকা প্রস্তুত করেন। দুদকের উপপরিচালক ও তল্লাশি দলের প্রধান মশিউর রহমান জানান, বিকেল ৫টা পর্যন্ত তালিকা করে বিরতি দেয়া হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে আবার কাজ শুরু হবে। এসব মালামাল আদালতকে বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।