ভারতে যুদ্ধবিমান তৈরিতে জালিয়াতির তথ্য ফাঁস

Printed Edition

এনডিটিভি

ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘তেজস এমকে-১এ’ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিকে ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রায় দুই শত ভুয়া পরীক্ষার প্রতিবেদন (টেস্ট রিপোর্ট) জমা দেয়ার অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের (এইচএএল) অভ্যন্তরীণ তদন্তে এই জালিয়াতির তথ্য উঠে আসে।

হায়দরাবাদভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘টিইসি অ্যারো ডিভাইসেস’ তেজস যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহের কাজ পেয়েছিল। ২০২২ সালের মার্চ থেকে এইচএএলের এয়ারক্র্যাফট ডিভিশন প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৫ ধরনের যন্ত্রাংশের মোট ১৭২টি উপাদান উৎপাদনের অনুমোদন দেয়। চুক্তির শর্ত মোতাবেক, বড় পরিসরে যন্ত্রাংশ সরবরাহের সময় মাননিয়ন্ত্রণের মূল পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দেয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে টিইসি অ্যারো ডিভাইসেস বিভিন্ন কারিগরি ও গুণগত মান সূচকের মোট ১৯৯টি পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দেয়।

পরবর্তী সময়ে এইচএএলের মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগ এই রিপোর্টগুলোর সত্যতা যাচাই করতে হায়দরাবাদের ‘অ্যাক্সিস ইনস্পেকশন সল্যুশনস’ নামের পরীক্ষাগারের সাথে যোগাযোগ করে। ২০২৩ সালের নভেম্বরের এক অডিটে জানা যায়, জমাকৃত ১৯৯টি রিপোর্টের একটিও অ্যাক্সিস ইনস্পেকশন সল্যুশনস থেকে ইস্যু করা হয়নি। ল্যাবের নাম ও স্বাক্ষর জাল করে অনুমতি ছাড়াই এই ভুয়া নথিপত্র তৈরি করা হয়েছিল।

জালিয়াতির এই ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৭ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য টিইসি অ্যারো ডিভাইসেসকে সব ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ ও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে বিতর্কিত এই সরবরাহের বিপরীতে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটিকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলে জানিয়েছে এইচএএল। অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে অবশেষে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ।