বিশেষ সংবাদদাতা
আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নিজ দলের প্রার্থীর বাইরে ভোট দিলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের সদস্যপদ বাতিল হবে কি না, তা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের যৌথ প্রস্তুতিমূলক বৈঠক শেষে সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দলের বাইরে ভোট দেয়া বা এতে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হওয়া না-হওয়া সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়, যার সাথে নির্বাচনের কারিগরি ও আইনি পরিচালনা প্রক্রিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।
সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন, জামায়াতে ইসলামী বা বিএনপির মতো দল পৃথক প্রার্থী দিলে এবং কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের প্রার্থীর বাইরে ভোট দিলে তা প্রাপ্ত ভোট হিসেবে গণ্য হবে কি না এবং তার আসন বাতিল হবে কি না। জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, ক্রসিং ভোটিং সংক্রান্ত জটিলতা রাজনৈতিক নেতাদের বিষয়, কমিশনের লক্ষ্য শুধু স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে নির্ধারিত নিয়মে নির্বাচন সম্পন্ন করা।
উল্লেখ্য, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে, তবে তিনি পরবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন না।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬-এর ভোটগ্রহণ সংক্রান্ত সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়। মোট ভোটার ৩৪৯ জন। আগামী ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ চলবে। ইসির সহায়ক কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ আসনে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন। কক্ষে থাকবে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স।
ব্যালট পেপারের গঠন সম্পর্কে সচিব জানান, প্রতিটি ব্যালটে দুটি অংশ থাকবে- মুড়ি অংশ ও মূল ব্যালট। মুড়িতে প্রার্থীর ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর ও স্বাক্ষরের ঘর থাকবে। মূল ব্যালটে প্রার্থীদের নামের পাশে সংসদ সদস্য নিজের নাম লিখে স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন।
ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টায়ই অধিবেশন কক্ষে ব্যালট বাক্সের সামনে গণনা শুরু হবে। চার-পাঁচ সদস্যের একটি গণক দল ব্যালট বাছাই করবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সরাসরি ফলাফল ঘোষণা করবেন। পরে কমিশন সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করা হবে। সচিব আরো জানান, ভোটের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে এবং সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত স্থান রাখা হবে। কমিশন সচিবালয় থেকে ২০ জন কর্মকর্তাকে বিশেষ পরিচয়পত্রসহ নির্বাচনী দায়িত্ব দেয়া হবে। ১৯৯১ সালের পর সংসদীয় পদ্ধতির এই ঐতিহাসিক নির্বাচন পরিদর্শনে নির্বাচন কমিশনাররাও উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানানো হয়।



