ক্রীড়া প্রতিবেদক
জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক কিংবদন্তি হকি ও ফুটবল খেলোয়াড়, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের সাবেক পরিচালক আবদুস সাদেক গতকাল সকালে ঢাকার গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বিদায়ের খবরে ক্রীড়াঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন এই কিংবদন্তি। তার ছোট ভাই শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। মরহুমের বড় ছেলে টি স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইশতিয়াক সাদেক।
১৯৪৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকায় জন্ম নেয়া আবদুস সাদেক আরমানিটোলা সরকারি স্কুলে পড়াকালীন সময়েই ফুটবল, হকি, ক্রিকেট অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত হকিই তাকে ইতিহাসে স্থায়ী করে দেয়। ষাটের দশকে ১৯৬৯ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে জাতীয় দলে খেলেছেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালের এশিয়ান গেমসে তিনি দেশের আন্তর্জাতিক হকি অভিযাত্রার নেতৃত্ব দেন। আবাহনীর হকি ও ফুটবলের প্রথম অধিনায়ক। পরে কোচ হিসেবেও আবাহনীকে সাফল্যের পথে নিয়ে যান। খেলতেন সেন্টার-হাফ পজিশনে। খেলা ছাড়ার পরও তিনি হারিয়ে যাননি। তিনি হয়ে উঠেন সংগঠক, প্রশাসক, পথপ্রদর্শক। ১৯৯৬ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পান।
খেলোয়াড়ী জীবন, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব (১৯৬১-১৯৬৩), কম্বাইন্ড স্পোর্টিং ক্লাব /আরমানিটোলা ক্লাব (১৯৬৪-১৯৬৯), ইস্পাহানি ক্লাব (১৯৭০), আবাহনী (১৯৭২-১৯৮১), কোচিং জীবন আবাহনী (১৯৭৫-১৯৭৯), বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল (১৯৮৬)
খেলোয়াড় হিসেবে জীবন ও অবদান
পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে প্রতিনিধি ১৯৬৪-১৯৭০, ১ এপ্রিল ১৯৬৭ সালে করাচিতে পূর্ব পাকিস্তান দল ১-০ গোলে পাকিস্তান নৌবাহিনীকে হারায়। ১৯৬৪-১৯৬৮ সালের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান সফরকারী জাপান, হল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত প্রীতিম্যাচগুলোতেও তিনি পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন। এপ্রিল ১৯৬৮ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান হকি দলের সদস্য হিসেবে লায়ালপুর, রাওয়ালপিন্ডি, শেখুপুরা, লাহোর ও মুলতানে প্রদর্শনী ম্যাচে অংশ নেন। লায়ালপুরে ম্যাচে তিনি একটি গোলও করেন। ১৯৬৯ সালের আগস্টে পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের ইউরোপ সফরের জন্য নির্বাচিত হন ১৯৭০ সালের আগস্টে কেনিয়া সফরকারী পাকিস্তান দলেরও সদস্য ছিলেন।
১৯৭১ সালের পুরুষদের হকি বিশ্বকাপে তিনি পাকিস্তান দলের সাথে পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান থেকে অপর পর্যবেক্ষক ছিলেন ইব্রাহিম সাবের। ১৯৬৯ সালের অক্টোবরে ইতালি চারটি ম্যাচ খেলেন এবং ওই সফরেই তিনি পাকিস্তান দলের আনুষ্ঠানিক ক্যাপ লাভ করেন।



