এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)
যশোরের চৌগাছায় রোপা আমনের ভরা মৌসুমে সারের তীব্র কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হয়েছে। খাতা-কলমে সারের কোনো ঘাটতি না থাকলেও মাঠপর্যায়ে তা পাচ্ছেন না সাধারণ চাষিরা। সারের জন্য দিনের পর দিন ডিলারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সরকার নির্ধারিত দামে সার সংগ্রহ করতে পারছেন না তারা। তবে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি টাকা দিলেই মিলছে চাহিদামাফিক সার। ফলে একদিকে কৃষকের উৎপাদন খরচ অনাকাক্সিক্ষতভাবে বাড়ছে, অন্যদিকে অসাধু ডিলার ও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে পকেট কাটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের হিসেব অনুযায়ী, আমন মৌসুম সামনে রেখে চৌগাছায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট চাহিদা ছিল এক লাখ ১৪ হাজার ৫০০ বস্তা। অথচ মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত চার মাসে ডিলারদের অনুকূলে পাঁচ হাজার ৫৭৭ মেট্রিক টন (প্রায় এক লাখ ১১ হাজার ৫৪০ বস্তা) সার বরাদ্দ দেয়া হয়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা উপজেলায় বর্তমানে মোট ৩৭ জন নিবন্ধিত মূল ডিলার রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬ জন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) এবং ২১ জন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ডিলার। এসব মূল ডিলারের অধীনে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১১০ জন সাব-ডিলার কাজ করছেন।
নথি অনুযায়ী, বিগত মে থেকে চলতি আগস্ট মাস পর্যন্ত চৌগাছায় এক হাজার ৭০ মেট্রিক টন টিএসপি, ৯১৩ মেট্রিক টন ডিএপি, দুই হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন ইউরিয়া ও ৭৫৯ মেট্রিক টন এমওপি বরাদ্দ দেয়া হয়। শুধু চলতি আগস্ট মাসেই সরকারি বরাদ্দ এসেছে এক হাজার ৪১০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৫৫০ মেট্রিক টন টিএসপি, ৪৩০ মেট্রিক টন ডিএপি এবং ৩৫৯ মেট্রিক টন এমওপি।
পৌর শহরের কুঠিপাড়া এলাকার কৃষক আব্দুল আজিজ জানান, আমন ধান, দুই বিঘা সবজি ও দুই বিঘা আখের জন্য সারের খোঁজে কয়েক মাস ধরে ঘুরছেন। ডিলাররা বরাদ্দের অভাব দেখালেও বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিলেই সার বের করে দিচ্ছেন। সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের কুলিয়া গ্রামের বাবু হোসেনের অভিযোগ, সার দোকানেই আছে, বাড়তি টাকা দিলে সব পাওয়া যায়।
তবে এসব অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিসিআইসি ডিলার হোসেন ট্রেডার্সের মালিক আলমগীর হোসেন। তিনি দাবি করেন, সরবরাহজনিত সাময়িক সমস্যা হলেও এখন আর সারের ঘাটতি নেই। আগস্টের পুরো সার উত্তোলন করায় সঙ্কট কেটে যাবে।



