জাতীয় কর্মশালায় কৃষিসচিব

চরাঞ্চলের পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনা হচ্ছে

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের চরাঞ্চলের বালু ও পতিত জমিকে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির আওতায় এনে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির মাধ্যমে চরাঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং কৃষকের আয় বাড়ানো সম্ভব। সরকারের প্রায় ২০৯ কোটি ২১ লাখ টাকার প্রকল্প এ লক্ষ্যেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর ফার্মগেটস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’-এর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, নদীভাঙন, বন্যা, খরা, যোগাযোগ সংকট এবং আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে চরাঞ্চলের কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। এসব সমস্যা মোকাবেলায় জুলাই ২০২৩ থেকে জুন ২০২৮ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে শস্যের নিবিড়তা ১৪০ শতাংশ থেকে ১৪৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং কৃষি উৎপাদন কমপক্ষে ৫ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। একই সাথে কৃষক পরিবারের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ড. রফিকুল ই মোহামেদ বলেন, প্রকল্পের আওতায় ৭০ হাজারের বেশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনী স্থাপন করা হবে। কৃষকদের জন্য ৪ হাজার ২৮১টি প্রশিক্ষণ ব্যাচ এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের জন্য ৩৫০টি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এতে মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর আরো সহজ হবে।

মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় ট্রাইকো কম্পোস্ট ও ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বসতবাড়িতে মাল্টা, উন্নত জাতের আম ও পেয়ারা চাষ এবং নারীদের চারা উৎপাদন ও জৈব সার তৈরিতে সম্পৃক্ততা অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া তাল, খেজুর, নারিকেল, জাম, নিম ও বটগাছ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি মত দেন।

কর্মশালায় প্রকল্প পরিচালক মো: জিয়াউর রহমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। বারি ও বিনার বিজ্ঞানীরা চরাঞ্চল উপযোগী ফসলের জাত ও প্রযুক্তি তুলে ধরেন। ভোলার মাঝের চর ও পাবনা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় পলিথিন মালচিং, পলিনেট হাউজ, ভার্মিকম্পোস্ট, কমিউনিটি ভিত্তিক ভার্মিকম্পোস্ট, ১২টি ফসলের প্রযুক্তি প্রদর্শনী এবং এলএলপি সেচ ব্যবস্থার কার্যক্রমও উপস্থাপন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে মহাপরিচালক মো: আব্দুর রহিম চরাঞ্চলের প্রকল্প কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে নিবিড় মনিটরিং জোরদার এবং উপপরিচালক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি প্রকল্পের সার্বিক সফলতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।