অপারেশন ডেভিল হান্টে আত্মগোপন

ভুয়া সনদ জমার অভিযোগ কলেজশিক্ষকের বিরুদ্ধে

Printed Edition

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের বোয়ালমারী কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো: মজনু মিয়ার বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার সময়কে বৈধতা দিতে ছয় মাস পর চিকিৎসা সনদ ও ছুটির আবেদন জমা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আরো অভিযোগ রয়েছে, সেই জমা দেয়া চিকিৎসা সনদটি ভুয়া এবং এতে ইতোপূর্বে অবসরে যাওয়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক শাহজাহান বিশ্বাসের নাম ও সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ৯ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন মজনু মিয়া। পরে গত ১ জুলাই তিনি কোনো তারিখবিহীন ছুটির আবেদন ও একটি চিকিৎসা সনদ কলেজে জমা দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিচালিত ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর সময় গ্রেফতার এড়াতে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বোয়ালমারী উপজেলা কমিটির ৭৯ নম্বর সদস্য বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। চিকিৎসা সনদে ঢাকার মিরপুর-১ এলাকার ‘বিসমিল্লাহ ফার্মেসি’র ঠিকানা উল্লেখ করে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, সেখানে ওই নামের কোনো চিকিৎসক নেই।

এদিকে মজনু মিয়ার বিরুদ্ধে অতীতেও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কলেজ সূত্রের দাবি, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে কলেজের প্রায় সাত লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর তিনি সেই অর্থ ফেরত দেন। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কলেজের অর্থ ব্যয়েরও নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে মো: মজনু মিয়া বলেন, ‘অপারেশন ডেভিল হান্টের কারণে নয়, জন্ডিসের উপসর্গ দেখা দেয়ায় আমি ঢাকার মিরপুরে চিকিৎসা নিয়েছিলাম।’