লালদীঘিতে ১১ দলের জনসভায় ডা: শফিক

যে সরকার জনরায় মানে না তারা জনগণের হতে পারে না

Printed Edition
চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে ১১ দলের জনসভার একাংশ; (ইনসেটে) জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ : নয়া দিগন্ত
চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে ১১ দলের জনসভার একাংশ; (ইনসেটে) জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ : নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রাম ব্যুরো

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, যে সরকার জনগণের রায় মানে না, তারা জনগণের সরকার হতে পারে না। বিভিন্ন মেকানিজমে সরকারে গিয়ে এখন বলছেন ৫১ শতাংশ মানুষ আপনাদের ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছে। ভালো কথা, কিন্তু ৭০ ভাগ মানুষ যে ভোট দিয়ে বলেছে গণরায় মানতে হবে, সেটা মানছেন না কেন? ৫১ ভাগ বুঝলেন, ৭০ ভাগ বুঝতে পারলেন না?

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ভালো মানুষ পাশে রাখুন, যাদের অন্তরে দেশপ্রেম আছে, মানবতা বোধ আছে, চরিত্র উন্নত, যারা চাঁদাবাজদের ভাগিদার নয়, তাদেরকে বসান। একজন কুখ্যাত ব্যাংক ডাকাতের গাড়িতে করে যারা রিসিপশন নেয় তাদের দ্বারা আপনার সরকার জনগণকে কিছু দিতে পারবে না।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে গতকাল চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া এ সমাবেশে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম)। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি।

কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আলী ওসমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি, এনসিপি নেতা এস এম সুজাউদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগরীর আহ্বায়ক মীর মো: শোয়াইব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি অধ্যাপক খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, এলডিপির চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি সৈয়দ গিয়াসুদ্দিন আলম, জাগপা চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি আবু মোজাফফর মুহাম্মদ আনাস, বাংলাদেশ লেবার পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি আলাউদ্দিন আলী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোবায়ের মাহমুদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, উত্তর জেলা আমির আলাউদ্দিন সিকদার, কক্সবাজার জেলা আমির ইসলামী অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহম্মদ আনোয়ারী, চাকসু ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি, ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী দক্ষিণ সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন, চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর সভাপতি মুহাম্মদ মুমিনুল হক প্রমুখ।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আমার কষ্ট লাগে প্রধানমন্ত্রীর জন্য। নিজের আশপাশে উনি কাদেরকে বসিয়েছেন। উনি কুমিল্লায় এসে ইপিজেড দেন, ফরিদপুরে গিয়ে সয়াবিন তেল দেন, সংসদে গিয়ে প্রাথমিক বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দেন। আর কক্সবাজারে এসে বলেছেন এই বাজেটে মাদক এবং ধূমপান জাতীয় দ্রব্যের কর বাড়ানো হয়েছে বলে বিরোধী দল তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল করেছে। যা মিথ্যা, ভুয়া, বিরোধীদলের কেউ এটা করেনি। আমার করুণা লাগে প্রধানমন্ত্রীর এই পদ রাষ্ট্রীয় পদ, তিনি রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। তার দিকে তাকিয়ে বিশ্বের জনগণ বাংলাদেশকে মূল্যায়ন করে। তার মুখ দিয়ে এসব ভুল কথা বের হতে থাকলে বাংলাদেশ লজ্জিত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এদেরকে চিহ্নিত করুন, যারা আপনাদেরকে ভুল বলাচ্ছে। আপনার সম্মান মানে বাংলাদেশের সম্মান, এদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিন। নইলে ক্ষতিগ্রস্ত শুধু আপনি হবেন না, গোটা জাতিকেই আপনি ক্ষতিগ্রস্ত করবেন।

তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে বিরোধীদল প্রতিক্রিয়া জানাবে, এটা খুবই স্বাভাবিক। এটা গণতন্ত্রের নির্যাস, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, এতে রাগ করার কী আছে? অল্পতে ধৈর্য হারালে ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব পালন করবেন কিভাবে? জনগণ সমর্থন দেবে, প্রশংসা করবে, জনগণ যখন দেখবে জন-আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে আপনার সরকার আন্তরিক। কিন্তু জনগণ যখন দেখবে ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে আপনার অপমান বা অগ্রাহ্য করছেন, তখন তারা বসে বসে আঙুল চুষবে না। রায় দিয়েছে জনগণ, মানতে হবে সরকারকে।

তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম জনগণের সব সমস্যার সমাধান সংসদে হোক, সরকার চায়নি, আমাদেরকে তারা ঠেলে দিয়েছে জনগণের কাতারে। যদি গণভোটের রায় মেনে নেয়া হতো, আজকের বিভাগীয় সমাবেশের প্রয়োজন হতো না। একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ, সীমান্তে কী হচ্ছে, না হচ্ছে এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য আমরা সংসদে নোটিশ দিয়েছি, আমাদের নোটিশকে নিয়ে টালবাহনা করা হচ্ছে। কারে খুশি করতে চান? কারে খুশি করে দেশ পরিচালনা করতে চান? যদি বাংলাদেশের সরকার হয়ে দেশ পরিচালনা করে থাকেন, তাহলে এই ধরনের ইস্যু সংসদে আলোচনা করতে দিতে হবে। আমরা সংসদে উত্তেজনা বাড়াতে আলোচনা করব না, আমরা আলোচনা করব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করার জন্য। কিন্তু আমাদেরকে সেই সুযোগ থেকে যদি বঞ্চিত রাখা হয়, মনে রাখবেন জাতির সাথে গাদ্দারি করে কেউ পার পাবে না ইনশাআল্লাহ। আমি কথা দিচ্ছি জাতির সাথে আমরা গাদ্দারি করব না। জীবনের বিনিময়ে হলেও আমাদের দেয়া কথা রক্ষা করবো।

তিনি বলেন, দেশের ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থী। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও গণরায়ের যথাযথ প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকার জন আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে জনগণই তার জবাব দেবে।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের মূল্যায়ন না করে ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন এবং দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে। সংসদে জনগণের সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে গেলেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ সংসদ জনগণের কথা বলার জায়গা।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশী শক্তির কাছে ইজারা দেয়া হবে না। দেশের ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এই বাংলাদেশকে রক্ষা করবে। আমরা জাতির সাথে বেঈমানি করব না; জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত আছি।

তিনি বলেন, জনগণ আশা করেছিল নির্বাচিত সরকার আসলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে, বাংলাদেশের কোথাও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এসব অপসংস্কৃতির অবসান ঘটবে। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম চলবে সংসদেও, রাজপথেও। ভয়ভীতি, মামলা-হামলা কিংবা কারাবাসের হুমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না।

এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ঘোষিত বাজেট সাধারণ মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সঙ্কট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জনগণ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। অথচ বাজেটে এসব মোকাবেলায় কার্যকর কোনো দিকনির্দেশনা নেই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মন খারাপ, তিনি মন খারাপ করে কক্সবাজারে বলেছেন, বিরোধীদল কেন বাজেটের সমালোচনা করে? প্রধানমন্ত্রীর মন খারাপ দেখে আমাদেরও মন খারাপ, আমরা চেয়েছিলাম আপনার বাজেটের প্রশংসা করতে। কিন্তু আপনি দুর্নীতির রাস্তা বন্ধ করেননি। লুটপাটের রাস্তা বন্ধ করেন নাই, ব্যাংক দখল বন্ধ করেন নাই। আমরা জানি না এই বাজেটের কত টাকা জনগনের উন্নয়নে ব্যয় হবে, কত টাকা আপনার নেতাকর্মীর পকেটে যাবে? আপনি একটা বাজেট দিয়েছেন, যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। যে বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে কয়েক লাখ কোটি টাকা ঋণ নিতে হবে ভিন্ন দেশ থেকে। ফলে এই বাজেটের সমালোচনা বিরোধীদল হিসেবে আমাদের করতেই হবে। আমরা সুস্পষ্টভাবেই বলেছিলাম, সুসাশন, স্বচ্ছতা, সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি-লুটপাট বন্ধ হবে না। আজকে হাড়ে হাড়ে বাংলাদেশের মানুষ সেটা দেখতে পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ব্যাংক দখল শুরু হয়ে গেছে। ইসলামী ব্যাংককে নতুন করে আবার এস আলমের হাতে তুলে দেয়ার বন্দোবস্ত করছে। আপনি যতই অস্বীকার করুন না কেন আমরা জানি এস আলমের গাড়িতে চড়ে কে বাংলাদেশে সংবর্ধনা নিয়েছিল? এস আলমকে কারা প্রোটেকশন দিচ্ছে- বাংলাদেশের জনগণ তা জানে। আপনি আদানির চুক্তি বহাল রাখবেন, ইসলামী ব্যাংককে নতুন করে এস আলমের হাতে তুলে দেবেন, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধে কোনো ধরনের সংস্কার করবেন না, আর বাজেটকে বিরোধী দল প্রশংসা করবে এটা বেশি প্রত্যাশা হয়ে যাচ্ছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলার আকাশ আর ভারতের আকাশ এক নয়, বাংলার মাটি এবং ভারতের মাটিও এক নয়, সেটা ১৯৪৭ সালেই ফায়সালা হয়ে গেছে।

এলডিপি চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি জনগণকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সামাজিক অস্থিরতা এবং জননিরাপত্তার সঙ্কট সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। নারীরা ঘরের বাইরে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছে, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের মধ্যেও উদ্বেগ বিরাজ করছে। সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যার ঘটনায় সরকারকে আরো কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায় শক্তিশালী, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির বিকল্প নেই।

তিনি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে বলেন, এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয় বরং চট্টগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। সরকারের উদ্যোগে দ্রুত এর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম গ্রহণ করা উচিত।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জনগণের আকাক্সক্ষা ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও জনমতের বিপরীতে অবস্থান না নিয়ে জনগণের দাবি মেনে নেয়াই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার সঠিক পথ। ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, জনগণের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপসের কোনো সুযোগ নেই। সীমান্ত হত্যা ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।

মুসা বিন ইজহার বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে টালবাহানা বন্ধ করতে হবে। জনগণের ভোট ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে জনগণই তার জবাব দেবে।

ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে কোনো রাজনৈতিক শক্তি টিকে থাকতে পারবে না। জাতীয় স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণ এসবের অবসান চায়।

সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জুলাই চেতনা ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ গড়তে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরশাসকদের পরিণতি কখনো শুভ হয় না।