রফিকুল হায়দার ফরহাদ
কাবাডি স্টেডিয়ামে ব্যস্ত সময় পার করছেন পুরুষ ও নারী দলের খেলোয়াড়রা। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর জাপানের নাগোয়া এবং আইচিতে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান গেমস। এই এশিয়ান গেমস বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী কাবাডি দলের পদক পুনরুদ্ধারের মিশন। পুরুষ দল ২০১০ সাল থেকে আর গেমসের পদক প্রদান মঞ্চে উপস্থিত থাকতে পারেনি। নারী কাবাডি দল ২০১৪ সালের পর পদকহীন। সাম্প্রতিক সময়ে নারী কাবাডি দলের আছে বেশ কয়েকটি সাফল্য। এশিয়ান কাবাডিতে ব্রোঞ্জ জয়ের পর, ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ব্রোঞ্জ পদক গলায় তোলা। এরপর চীনের সানিয়া শহরে গিয়েও তাদের সাফল্য। সেখানেই ব্রোঞ্জ জয়। যা তাদের বিশ্ব কাবাডির র্যাংকিংয়ে তিন নাম্বারে নিয়ে গেছে। তাই এবারের এশিয়ান গেমসে শ্রাবণী বিশ্বাসদের নিয়ে পদক পুনরুদ্ধারের আশা দেখা হচ্ছিল; কিন্তু কঠিন গ্রুপে পড়া এবং দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি সেই আশা আর দেখাচ্ছে না। তাই কোচ শাহনাজ পারভীন মালেকার হতাশামাখা কণ্ঠ, ‘পদক পুনরুদ্ধারটা বেশ কঠিনই।’ ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর জাপানের আইচি ও নাগোয়াতে অনুষ্ঠিত হবে এবারের এশিয়ান গেমস।
এই হতাশার কারণও ব্যাখ্যা করলেন কোচ মালেকা। তার মতে, ‘গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড় এখন ক্যাম্পে নেই। এরা হলেন- স্মৃতি আক্তার ও রাত্রি।’ সর্বশেষ বিশ্বকাপে সেরা ক্যাচারের পুরস্কার পেয়েছিলেন স্মৃতি আক্তার। তিনি একই সাথে সেরা রেইডারও। তবে তিনি গর্ভবতী হওয়ায় তার পক্ষে আর এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়া সম্ভব নয়। আর রাত্রি এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ার জন্য ক্যাম্প ছেড়ে চলে গেছেন। পরীক্ষা শেষে ফিরবেন ক্যাম্পে। ক্যাম্পে ফেরার পর তাকে পুরোপুরি ফিট পাওয়া যাবে তা নিশ্চিত নয়। এরপর ফিটনেস ফিরে পেয়ে তার ফর্মে ফেরা নিয়েও রয়েছে সংশয়। ফলে এদের অনুপস্থিতি দলকে বিপদে ফেলতে যাচ্ছে।
স্মৃতি, রাত্রিদের অনুপস্থিতির সাথে নারী কাবাডির গ্রুপিংটাও আরো ব্যাকসিটে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশী কাবাডি দলকে। বাংলাদেশের গ্রুপে আছে ভারত ও ইরানের মতো শক্তিশালী দল। সে তুলনায় একটু হলেও দুর্বল দল জাপান। যদিও এবারের গেমসের স্বাগতিক হিসেবে জাপানও আঁটঘাট বেঁধে নামবে পদক জেতার জন্য। পদকের লড়াইয়ে থাকতে হলে বাংলাদেশের পক্ষে ভারত ও ইরানকে হারানোর সম্ভাবনা একেবারেই কম। সে ক্ষেত্রে এই দুই দলের বিপক্ষে জিততে না পারলে সেমিতে যাওয়া যাবে না। তখন পদক পুনরুদ্ধারের আশা নিরাশায় পরিণত হবে। এ দিকে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের এক কর্মকর্তা সম্প্রতি নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের সিরিজে লাল-সবুজদের পারফরম্যান্সে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। যদিও বাংলাদেশ নারী দল সেই সিরিজে জিতেছিল; কিন্তু নেপাল যেভাবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল সেটিই শঙ্কা জাগাচ্ছে। জানান ওই কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, ২০২৩ হ্যাংজু এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দল হেরেছিল নেপালের কাছে। এতেই শেষ হয়ে যায় লাল-সবুজদের পদকের সব আশা।
নারী দলের তুলনায় অবশ্য পুরুষ দলের গ্রুপিংটা অপেক্ষাকৃত সহজই। পুরুষ দলের গ্রুপে আছে ভারত, চায়নিজ তাইপে ও জাপান। পুরুষ দলের কোচ বাদশা মিয়া। যিনি জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। তার নেতৃত্বেই ২০০২ বুসান এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ রৌপ্য পদক জিতেছিল। বাদশা মিয়া জোরালো কণ্ঠেই বললেন, ‘অবশ্যই আমাদের লক্ষ্য থাকবে পদক পুনরুদ্ধার। চায়নিজ তাইপে, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েই জিততে চাই পদক।’
তবে দলের রক্ষণভাগ নিয়ে আরো কাজ করার আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি, যা আগামী দিনগুলোতে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। আশাবাদ বাদশা মিয়ার।



