রিয়াদ মাহমুদ সিকদার কাউখালী (পিরোজপুর)
কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি আধুনিক কৃষিচর্চার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন পিরোজপুরের কাউখালীর তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সাকিবুল ইসলাম শান্ত। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রীষ্মকালীন লাউ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন তিনি। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় তরুণদের মধ্যেও কৃষির প্রতি আগ্রী করে তুলছে।
চিরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাকিবুল ইসলাম শান্ত কাউখালী সরকারি কলেজে তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে এসএসিপি প্রকল্পের আওতায় ৫০ শতাংশ জমিতে গ্রীষ্মকালীন লাউ চাষ করছেন তিনি।
শান্ত জানান, আধুনিক ও নিরাপদ কৃষিপদ্ধতি অনুসরণ করে তিনি রাসায়নিক সারের পরিবর্তে নিজস্বভাবে উৎপাদিত কেঁচো সার ব্যবহার করছেন। একই সাথে কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেন ফেরোমোন ট্র্যাপ ও হলুদ আঠালো ফাঁদ।
গত বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শান্ত বলেন, গত বছর লাউ চাষ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছি। এ বছর ইতোমধ্যে প্রায় তিন হাজার টাকার লাউ ও লাউশাক বিক্রি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুম শেষে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার লাউ ও লাউশাক বিক্রির আশা করছি এবার।
শান্ত বলেন, ‘কৃষিকাজ থেকে পাওয়া আয় দিয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ পুরোটা এবং পরিবারেও কিছুটা সহায়তা করছি।’ তার মতে, আধুনিক কৃষিপদ্ধতি অনুসরণ করলে একজন শিক্ষার্থীও কৃষিকে আয়ের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, তরুণদের কৃষিমুখী করতে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়া হচ্ছে। শান্ত সেই উদ্যোগের একজন সফল উদাহরণ।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাইনুল হুদা বলেন, শান্ত একজন উদ্যমী ও পরিশ্রমী তরুণ। তিনি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে লাউ চাষ করছেন। কেঁচো সার, ফেরোমোন ট্র্যাপ ও হলুদ আঠালো ফাঁদের ব্যবহার নিরাপদ কৃষি সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস বলেন, একজন কলেজশিক্ষার্থী হিসেবে শান্ত কৃষিকে আয়ের উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছে। এটা বেশ প্রশংসনীয়। কৃষি অফিস তার পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান বলেন, তরুণদের মধ্যে কৃষির প্রতি আগ্রহ বাড়ানো সময়ের দাবি। শান্ত দেখিয়ে দিয়েছেন, নিজের পড়াশোনা চালিয়ে নেয়ার পাশাপাশি কৃষিতেও সফল উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব। তার মতো উদ্যোগী তরুণরাই নিজেদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
স্থানীয়দের মতে, শান্তর এই উদ্যোগ উপজেলার শিক্ষিত তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। আধুনিক ও নিরাপদ কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার তাকে যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করছে, তেমনি কৃষিকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা রাখছে।



