চার জেলায় ৭ জন নিহত

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

সড়ক দুর্ঘটনায় গতকাল চার জেলায় নারী ও শিশুসহ সাতজন নিহত ও কমপক্ষে ৪৩ জন আহত হয়েছেন।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জামালপুরে সিএনজি অটোরিকশা-ভটভটির মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই নারী নিহত এবং আহত হয়েছেন আরো তিনজন। রোববার জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের মেলান্দহ উপজেলার চরবানী পাকুরিয়া ইউনিয়নের বেতমারী (তালতলা) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন- মজিবর (৫৫), জীবন মিয়া (৩৫) এবং তুষার (৩৮)। তারা দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কাঠারবিল এলাকা বাসিন্দা বলে জানা গেছে। আহতদের স্বজনরা জানান- দুপুরে দেওয়ানগঞ্জ থেকে জামালপুরগামী একটি সিএনজি বেতমারী (তালতলা) এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভটভটির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই এক নারী নিহত হন। গুরুতর আহত অপর নারীকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। তাদের পরিচয় জানা যায়নি। জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা: উজ্জ্বল কুমার সরকার জানান, ‘দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে দু’জন নারী মারা গেছেন। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতদের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বালুভর্তি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে রব্বানি মণ্ডল (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পাবই এলাকায় এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানার পাশের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রব্বানি মণ্ডল সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার লাহেরি মোহনপুর এলাকার মৃত জালাল মণ্ডলের ছেলে।

ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোতালিব জানান, একটি বালুবাহী ট্রাক ব্যাক গিয়ারে যাওয়ার সময় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারী রব্বানি মণ্ডলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে পড়ে গেলে ট্রাকটির চাকায় পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর চালক ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

বাসস জানায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সেতু থেকে বাস পড়ে গিয়ে একজন নিহত এবং অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম দেলোয়ার হোসেন (৫০)। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার ফুলহারা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

বরঙ্গাইল হাইওয়ে পুলিশের ওসি হারুন-অর-রশিদ জানান, রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ‘সেলফি পরিবহন’-এর একটি বাস ঢাকা যাওয়ার পথে বারঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দু’টি সেতুর মাঝখানে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক যাত্রী নিহত এবং অন্তত ৪০ জন আহত হন। আহতদের শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মুন্নু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওসি হারুন-অর-রশিদ জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বাসের চালক ও হেলপার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। পুলিশ তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

মেলান্দহে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ৩

মেলান্দহ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় পৃথক দু’টি সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলার চরপলিশা বেতমারী তালতলা এলাকায় (দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুর) আঞ্চলিক মহাসড়কে সিএনজি ও ভটভটির মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’জন নিহত হন। একই দিন সকালে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের আগপয়লা এলাকায় অটোরিকশার চাপায় নাজনিন নাহার (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

নিহত ওই শিশু একই এলাকার নাজমুল হোসেনের মেয়ে। নিহত বাকি দু’জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের লাশ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের চরপলিশা বেতমারী তালতলা এলাকায় জামালপুরগামী একটি সিএনজি ও মেলান্দহগামী একটি ভটভটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিতে থাকা এক নারী ও এক যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

অন্য দিকে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের আগপয়লা এলাকায় বাড়ি থেকে বের হয়ে সড়ক পার হওয়ার সময় নাজনিন নাহার নামে এক শিশু অটোরিকশার চাপায় গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।