ফরিদপুর প্রতিনিধি
দেশে চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ টন বেশি সার আমদানি করা হয়েছে। তাই সারের কোনো সঙ্কট নেই। এরপরও একটি মহল পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। বেশি দামে সার বিক্রি করলে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
গতকাল শনিবার দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো: মাজহারুল ইসলাম।
মন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষিবান্ধব। কৃষকের উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হবে। কৃষকের উন্নতি হলে দেশের অগ্রগতি হবে। দেশে পর্যাপ্ত সার আমদানি করা হলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, কিছু খুচরা বিক্রেতা বাজারে সার নেই বলে প্রচার করছেন। অথচ অতিরিক্ত টাকা দিলে তারাই আবার সার সরবরাহ করছেন। কারসাজির মাধ্যমে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলার সার ডিলারদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বরাদ্দের সার সময়মতো না তুললেও সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কৃষকদের কাছে সঠিক দামে ও সময়মতো সার পৌঁছে দিতে ডিলারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে দেশের মাটির গুণগত মান আগের মতো নেই। তবে ফরিদপুরের মাটি এখনো উর্বর। এ জেলার কৃষিকে আরো এগিয়ে নেয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
সভায় চরাঞ্চলে ডাল, রসুন, পেঁয়াজ ও পাটবীজ উৎপাদন, দেশী মাছচাষ, শাকসবজি উৎপাদন ও ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল উন্নয়ন কর্মসূচি জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভা শেষে নির্বাচিত কৃষকদের মধ্যে উন্নতমানের পাটবীজ, অ্যাগ্রো-ফ্রা মেশিন ও চেক বিতরণ করেন মন্ত্রী। পরে তিনি পেঁয়াজ ও পাটচাষিদের সাথে মতবিনিময় এবং জেলার বিভিন্ন কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন।



