দেবিদ্বার (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘আপনারা যদি আমাকে দায়িত্ব দেন, তাহলে চাঁদাবাজ, মাদককারবারি ও ঋণখেলাপিদের ঘুম হারাম করে দেবো।’
মাদককারবারি, মাদকসেবক ও এর সাথে জড়িত সবাইকে শেষবারের মতো সতর্কবার্তা দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আপনারা ভুল থেকে ফিরে আসুন। কর্মসংস্থানের প্রয়োজন হলে আমাদের জানান- ‘দোকান, গরু বা অন্য কোনো বৈধ উপায়ে জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে; কিন্তু কেউ যদি মনে করে এখানে মাদককারবার বা সিন্ডিকেট চালাবে, তাহলে তাদের অবস্থা খুবই খারাপ হবে।’
শুক্রবার কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের মরিচা গ্রামে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রাজনীতিতে মাদক ও চাঁদাবাজদের সাথে আপসের সংস্কৃতির সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘অনেক বড় বড় নেতা এতদিন মাদকসম্রাটদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে রাজনীতি করেছে। এখন তারা পালানোর পথে। ইনশা আল্লাহ অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের দিন শেষ হবে।’
নিজের সাথে ছবি তুলে অবৈধ সুবিধা নেয়ার অপচেষ্টার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমার সাথে ছবি থাকলেই কেউ আমার লোক হয়ে যায় না। এমনকি আমার বাবা যদি অবৈধ সুবিধা চাইতে আসেন, তাকেও কোনো জায়গা দেয়া হবে না। ছবি দেখিয়ে সম্পর্ক প্রমাণ করা যাবে না।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে নেতারা নির্বাচনের আগে সামান্য সহায়তা করে পাঁচ বছর জনগণের কাছে পাওয়া যেত না। এবার উল্টো হবে।
প্রথম ১৫ দিন জনগণ আমাকে সাহায্য করবে আর পরের পাঁচ বছর আমি জনগণের পাশে থাকব।
তিনি ভোটার ও কর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, প্রত্যেককে প্রতিদিন অন্তত ১০ জনের কাছে গিয়ে শাপলাকলি মার্কায় ভোট চাইবেন।
ভোট চাওয়ার কোনো বয়স নেই উল্লেখ করে তিনি সবাইকে প্রচারণায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
হাসনাত আব্দুুল্লাহ বলেন, ‘ভোট দুইভাবে হয়- একটা চাঁদাবাজ, মাদককারবারি, টেন্ডারবাজদের সাথে আপস করে। আরেকটা হয় সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে। আমি জনতার কাছে এসেছি। আপনারা যদি আমাকে দায়িত্ব দেন, তাহলে চাঁদাবাজ, মাদককারবারি ও ঋণখেলাপিদের ঘুম হারাম করে দেবো।’
নারীদের ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ইনশা আল্লাহ এবার আমাদের মায়েদের, খালাদের, চাচীদের ভোটেই আমরা সংসদে যাবো। নারীরা একবার কথা দিলে সেটি কখনো ভাঙে না। এবারের ভোটে আপনারা আপনাদের সন্তান হিসেবেই আমাকে ভোট দিন।



