আটই ফাল্গুন। ভোররে মষ্টিি রোদে বসন্তরে আলতো ছােঁয়া; কন্তিু বাতাসটা আজ অন্য দনিরে চয়েে আলাদা। শীতে জবুথবু ভাবটা কটেে গছে,ে রাস্তার ধাররে কৃষ্ণচূড়া গাছগুলোতে কচি পাতার সবুজ কুঁড়ি উঁকি দচ্ছি।ে পাখি ডাকছে আপন মন।ে কন্তিু মতনি ময়িার চোখে এসব দখোর জো নইে। তার দুশ্চন্তিার আকাশটা আজ বড্ড মঘেলা। অভাবরে সংসারে অভাবটাই যনে নত্যিসঙ্গী। চালরে ড্রামটা কাল রাত থকেইে খালি পড়ে আছ,ে পরনরে লুঙ্গটিা জায়গায় জায়গায় র্জীণ।
সদেনি রাতে যখন মতনি ময়িা রকিশা গ্যারজেে রখেে ঘরে ফরিলনে, দখেলনে চার বছররে ছলেে মশিকাত পা ছড়য়িে অঘোরে ঘুমাচ্ছ।ে মাটরি প্রদীপরে আবছা আলোয় ছলেরে নষ্পিাপ মুখটা দখেে তার বুকরে ভতেরটা দুমড়-েমুচড়ে গলে। ছলেটো কয়কে দনি ধরে একটা লাটমি চাচ্ছ;ে কন্তিু হাত একদম খাল।ি একটা র্দীঘশ্বাস ছড়েে সামান্য নুন-লঙ্কা আর পান্তা খয়েে বছিানায় পঠি ঠকেয়িে দলিনে তনি।ি
ঘুমরে ঘোরে মতনি ময়িা এক অদ্ভুত স্বপ্ন দখেলনে। দখেলনে, তনিি ট্রনেে চপেে গ্রামরে বাড়ি যাচ্ছনে। স্টশেনে নামতইে দখেলনে তার মা আর বাপজান দাঁড়য়িে আছনে। মা তার মাথায় হাত বুলয়িে বলছনে, ‘আইছস বাপ? অনকে দনি দখেি না তর।ে’ স্বপ্নরে সইে মা-বাবার হাতরে র্স্পশ তাকে এক লহমায় যনে শশৈবে ফরিয়িে নয়িে গলে। কন্তিু হঠাৎ করইে ঘুমটা ভঙেে গলে। বাকি রাতটা এপাশ-ওপাশ করে কটেে গলে, বুকরে ভতেরটা হু হু করে উঠল এক অজানা আশঙ্কায়! ফজররে আজান দতিইে মতনি ময়িা রকিশা নয়িে বরেয়িে পড়লনে। রোজকার ঢাকা শহরে রকিশা-গাড়রি র্হনে কান পাতা দায় হয়; কন্তিু আজ চারদকি কমেন নঝিুম, নস্তিব্ধ। কমেন এক ছমছমে আতঙ্ক যনে বাতাসরে সাথে মশিে আছ।ে রাস্তাঘাট জনশূন্য, কবেল দু-একটি কুকুর দূরে ডকেে উঠছ।ে রকিশার সটিে বসে মতনি ময়িা বড়িি ধরালনে। যাত্রী নইে, রোজগারও নইে। হঠাৎ তাকে দখেে অস্থরি পায়ে এগয়িে এলো ইসহাক ময়িা। ওকে দখেইে বোঝা যাচ্ছ,ে সে খুব ঘাবড়ে আছ।ে -‘আরে মতনি ভাই, তুমি এহন এখান?ে জানো না কী চলতছে?ে
-‘কী হইছে ইসহাক? শহর এমন মরা বাড়রি মতো লাগে ক্যান?’ -‘সরকারে র্কাফু (কারফউি) দছি।ে পুলশি-মলিটিারি সব রাস্তায় নামছ।ে জান নয়িা বাড়ি যাও ময়িা!’ ইসহাক ময়িা আর দাঁড়াল না, প্রায় দৌড়ে বাড়রি পথে পা বাড়াল। মতনি ময়িার কনে জানি বাড়ি যতেে মন চাইল না। তার চোখে ভাসছে গত রাতরে সইে স্বপ্নরে দৃশ্য। কতদনি পর মা-বাপরে দখো পলেনে! মনে মনে ভাবলনে, আজ যদি কয়কেটা টাকা কামাই হয়, তবে মা আর বাপজানরে আত্মার শান্তরি জন্য মসজদিরে গটেে বসা মসিকনিদরে কছিু দান করবনে।
এমন সময় হঠাৎ একদল তরুণরে দৃপ্ত কণ্ঠরে স্লোগান দতিে দতিে এগয়ি।ে ঢাকা বশ্বিবদ্যিালয়রে দকি থকেে মছিলি আসছ।ে থোকা থোকা ছলে,ে কারো পরনে সাধারণ র্শাট, কারো কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ। সবার মুখে একই আওয়াজ- ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই!’ ‘জুলুমবাজরে বচিার চাই!’ ‘আমার ভাষা তোমার ভাষা বাংলা ভাষা, বাংলা ভাষা!’ মতনি ময়িা রকিশার হাতল ধরে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়য়িে রইলনে। তনিি বশেি লখোপড়া জাননে না; কন্তিু এটুকু বুঝলনে, এই ছলেগেুলো নজিরে মায়রে ভাষার জন্য লড়াই করছ।ে হঠাৎ একটি জলপাই রঙরে জপি এসে থামল মছিলিরে সামন।ে কোনো হুঁশয়িারি নইে, কোনো ঘোষণা নইে মুর্হূতইে শুরু হলো ‘ঠাস-ঠাস’ শব্দে গুলর্বিষণ। চারদকিে র্আতনাদ, মানুষরে দগি¦িদকি ছোটাছুট।ি মতনি ময়িা রকিশার আড়ালে যাওয়ার সুযোগটুকুও পলেনে না। হঠাৎ তার পটেরে বাঁদকিে এক তীব্র কামড় অনুভব করলনে। মনে হলো, শরীরটা যনে কউে গরম লোহার রড দয়িে এফােঁড়-ওফােঁড় করে দয়িছে।ে এক লহমায় সারা শরীরে আগুনরে হলকা বয়ে গলে। তার পা দুটো থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে অবশ হয়ে এলো। পটেে হাত দতিইে দখেলনে তার আস্ত তালু রক্তে মাখামাখ।ি গরম রক্ত ফনিকি দয়িে বরেোচ্ছে তার পুরনো লুঙ্গি ভজিয়ি।ে ‘মা... ‘বাপজান’...‘বড়িবড়িয়িে কবেল এইটুকু শব্দ বরেোল তার ঠােঁট থকে।ে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছ।ে মাথার ওপররে নীল আকাশটা যনে ঘুরতে শুরু করছে।ে তার মনে হলো, সামনইে সইে স্বপ্নরে ট্রনেটা দাঁড়য়িে আছ,ে আর দরজায় তার মা আর বাপজান হাত নড়েে তাকে ডাকছনে। তনিি রকিশার হ্যান্ডলেটা শক্ত করে ধরার চষ্টো করলনে; কন্তিু হাত ছটিকে গলে। ‘ধপাস’ করে নজিরে প্রয়ি রকিশাটার নচিে লুটয়িে পড়লনে মতনি ময়িা। আটই ফাল্গুনরে সইে রক্তঝরা সকালে পচিঢালা কালো রাজপথটা লাল হয়ে উঠল এক সাধারণ মানুষরে রক্ত।ে মশিকাতরে জন্য লাটমি নয়িে ফরো হলো না তার। রকিশার চাকা বয়েে সে রক্ত পৗেঁছে গলে মছিলি স্থল।ে আকাশে তখনো ধ্বনতি হচ্ছে শষে হয়ে যাওয়া মছিলিে রশে- ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই...’ ম



