এএইচএফ ওমেন্স কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের নারী হকির পথচলা একসময় ছিল সীমিত স্বপ্নের গল্প। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব, আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্বল্পতা আর অবহেলার দেয়াল পেরিয়ে এই দলটিকে এগোতে হয়েছে প্রতিটি ধাপে। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই ছবিটা বদলাতে শুরু করেছে। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা প্রমাণ করছে, সম্ভাবনা আর পরিশ্রম একসাথে মিললে অসম্ভবও সম্ভব। সেই অগ্রযাত্রার নতুন মাইলফলক গড়ে ওমেন্স জুনিয়র এএইচএফ কাপে ফাইনালে উঠে এশিয়া কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

তিন ম্যাচেই দুর্দান্ত আধিপত্য দেখিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে হংকং চায়নাকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেয় মেয়েরা। সেই ম্যাচে অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন আইরিন আক্তার রিয়া। দ্বিতীয় ম্যাচেই আসে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। শক্তিশালী উজবেকিস্তানের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ১-০ গোলের মূল্যবান জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। দারুণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন রিয়াসা। এই জয়ই মূলত ফাইনালের পথে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস আরো দৃঢ় করে।

তবে সবচেয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ৮-০ গোলের জয়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলকে এমন ব্যবধানে হারিয়ে শুধু ফাইনালই নিশ্চিত করেনি, নিজেদের শক্তিমত্তারও জোরালো বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক হকির দারুণ প্রদর্শনীতে হ্যাটট্রিক করেন ইমা। এ ছাড়া রিমন, কণা, রিয়া, তিশা ও প্রিয়ন্তি একটি করে গোল করেন। দুর্দান্ত তিন গোল করে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে ইমার হাতে।

তিন ম্যাচে বাংলাদেশ করেছে ১৫ গোল, বিপরীতে একটি গোলও হজম করতে হয়নি। আক্রমণভাগের ধার, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তা সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে তারা।

এই সাফল্যের সাথে এসেছে আরো বড় অর্জন। ফাইনালে ওঠার সুবাদে আগামী এশিয়া কাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের জুনিয়র নারী দল। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের আরো বড় পরিসরে তুলে ধরার এটি হবে দারুণ এক সুযোগ।

বাংলাদেশ নারী হকির এই ধারাবাহিক উন্নতি কেবল একটি টুর্নামেন্টের সাফল্য নয়, বরং দীর্ঘ দিনের পরিশ্রমের প্রতিফলন। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস, কোচিং স্টাফের পরিকল্পনা এবং ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা ভবিষ্যতের জন্য নতুন আশা জাগাচ্ছে। এখন সেই স্বপ্নকে আরো বড় রঙে রাঙানোর অপেক্ষা ফাইনালে শিরোপা জিতে ইতিহাসের আরেকটি সোনালি অধ্যায় লেখার।