কূটনৈতিক প্রতিবেদক
জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ছুটি নয়, বরং সরকারি সফরে দীর্ঘ দিনের জন্য নিউ ইয়র্ক গেলেন। এ সময় তিনি নিয়মিতভাবে বেতন-ভাতা পাবেন। এ ছাড়া তার ভ্রমণ ও আবাসনের খরচ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট থেকে বরাদ্দ দেয়া হবে। এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, ড. খলিলুর রহমান ইউএনজিএ’র ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্বের জন্য ৩১ আগস্ট থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি সফরে নিউ ইয়র্ক থাকবেন। এই সফর এবং প্রয়োজনীয় ভ্রমণ ও ট্রানজিটের সময়কে সরকারি দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করা হবে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এ সময় তিনি বেতন-ভাতা বাংলাদেশের স্থানীয় মুদ্রায় পাবেন।
এদিকে ইউএনজিএ’র সভাপতি পদে ড. খলিলুর রহমানের দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী ও দু’জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বন্টন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ এবং শামা ওবায়েদ ইসলাম পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের দিক-নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন।
হুমায়ুন কবির দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিষয়াবলী, অনিবাসী বাংলাদেশী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক নির্ধারিত অন্য যেকোনো বিষয় দেখভাল করবেন। অন্যদিকে শামা ওবায়েদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, মানবাধিকার, গবেষণা এবং উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, সৃজনশীল অর্থনীতি, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সমুদ্র আইন ও সমুদ্রসম্পদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াবিষয়ক কূটনীতি নিয়ে কাজ করবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় সেপ্টেম্বর থেকে আগামী এক বছর ব্যস্ত সময় পার করবেন। তবে একইসাথে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বেও থাকবেন। শামা ওবায়েদ বিএনপি সরকার গঠনের প্রথম থেকেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। আর হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রী হিসেবে গত ২১ আগস্ট শপথ নিয়েছেন।
ইউএনজিএ নির্বাচনের আগে গত ১৩ মে নিউ ইয়র্কে সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে প্রার্থীদের সাথে জাতিসঙ্ঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর একটি অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সংলাপ হয়। এতে অ্যান্ডোরার প্রতিনিধি জানতে চেয়েছিলেন, সাধারণ পরিষদের পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হলে তাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে কি না। জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, পদত্যাগই একমাত্র বিকল্প নয়। বরং তিনি ছুটিতেও যেতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন যে পূর্ণকালীন দায়িত্ব হিসেবে এই পদটি গ্রহণের জন্য তাকে এক বছরের জন্য রেহাই দেয়া হবে।
নির্বাচনের পর নিউ ইয়র্ক থেকে ফিরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ড. খলিলুর রহমান বলেন, আজ থেকে ৪০ বছর আগে হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী সাহেব, আমাদের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ইউএনজিএ’র সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমি তার একান্ত সচিব ছিলাম। তিনি দুই পদেই (পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউএনজিএ’র সভাপতি) পূর্ণকালীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন। তখন ছিল ইন্টারনেট-পূর্ব যুগ। এখন নিরবচ্ছিন্নভাবে দু’টি দায়িত্বই একসাথে পালন করা সম্ভব। এটা এখন খুবই স্বাভাবিক।



