মো: মিজানুর রহমান চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পাহাড়ি ছড়া, নদী, চা বাগান ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাদদেশ থেকে অবাধে মূল্যবান সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী কয়েকটি চক্রের বিরুদ্ধে। ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত চলছে বালু উত্তোলন ও পাচার। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চা বাগান, বনাঞ্চল, বসতি ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও অবৈধ এ কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চণ্ডিছড়া চা বাগানের ছড়া, গাঁধাছড়া, গিলানিছড়া, মুড়িছড়া, করাঙ্গী নদী, সুতাং নদীর দেওরগাছ, আতমলী ও বদরগাজি অংশ এবং শানখলা ইউনিয়নের পানছড়ি এলাকায় একাধিক চক্র রাতের আঁধারে ড্রেজার মেশিন দিয়ে সিলিকা বালু উত্তোলন করছে। উত্তোলিত বালু ট্রাক্টর ও ড্রামট্রাকে করে বিভিন্ন ডিপোতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তা দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও নির্মাণ কাজে সরবরাহ করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে পাহাড়ি ছড়াগুলোতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কও ভেঙে পড়ছে। এতে বর্ষায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি চা বাগান, শ্রমিক কলোনি, বসতবাড়ি ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল হুমকির মুখে পড়ছে।
সরেজমিনে উপজেলার হলহলিয়া এলাকার গিলানিছড়া, সুতাং নদী ও পানছড়ি এলাকার গাঁধাছড়া দেখা যায়, অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে এসব এলাকা থেকে বালু সরিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মজুদ করা হয়। পরে সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর হবিগঞ্জ জেলার কোথাও সিলিকা বালু মহাল ইজারা দেয়া হয়নি। জেলার তালিকাভুক্ত ২৩টি সিলিকা বালুমহালের একটিও ইজারা না থাকলেও চুনারুঘাট, মাধবপুর ও বাহুবলের বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া ও চা বাগান এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন থেমে নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রভাবশালী কয়েকটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে অভিযুক্তদের একজন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি বালু উত্তোলন করছি না। অন্যরা এ কাজে জড়িত, অথচ দোষ আমার ওপর চাপানো হচ্ছে।’
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাতেও একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অনেককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।



