এইচ এম হুমায়ুন কবির কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
সরকারি নিষেধাজ্ঞা, জলদস্যুদের উৎপাত এবং দফায় দফায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলের হাজারো জেলে পরিবার এখন চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সাগরে মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে গত ১১ জুন বুকভরা আশা নিয়ে সাগরে পাড়ি জমিয়েছিলেন জেলেরা। কিন্তু এরপর থেকেই সমুদ্রে শুরু হয়েছে লঘুচাপ ও নি¤œচাপ।
সাগর উত্তাল থাকায় ট্রলার নিয়ে বারবার গিয়েও খালি হাতে ঘাটে ফিরতে হচ্ছে তাদের। গভীর সমুদ্রে প্রতিবার ট্রলার পাঠাতে মালিকদের কয়েক লাখ টাকার বাজার ও জ্বালানি খরচ করতে হয়। মাছ না পাওয়ায় সেই লগ্নি করা টাকাই উঠছে না। জুলাই থেকে অক্টোবর ইলিশের মূল মৌসুম হলেও এবার নদী বা সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশের দেখা মিলছে না। যা-ও পাওয়া যাচ্ছে, তা আকারে খুবই ছোট। সর্বশেষ শনিবার বিকেলে আলীপুর মৎস্য বন্দরে শত শত ট্রলার নোঙর করে অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় অলস সময় পার করছেন জেলেরা। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দুদিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যা জেলেদের দুশ্চিন্তা আরো বাড়িয়েছে।
জেলেদের অভিযোগ, কুয়াকাটা, মহিপুর ও আলীপুর উপকূলসংলগ্ন অগভীর বঙ্গোপসাগরে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন অবৈধ ট্রলিং বোটের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব বোটে ফিশ ফাইন্ডার, রাডার ও নিষিদ্ধ বটম ট্রলিংয়ের মাধ্যমে সাগরের তলদেশ ছেঁকে মাছের পোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছ ধ্বংস করা হচ্ছে। কলাপাড়া ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর প্রশাসনকে জানিয়েও এই অবৈধ ট্রলিং বন্ধ করা যায়নি, যার ফলে সরকারি নিষেধাজ্ঞার সুফল ভেস্তে যাচ্ছে।
এদিকে আকাল চলায় মহিপুর-আলীপুর মৎস্য ঘাটে স্থবিরতা নেমে এসেছে। আড়তদারেরা লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়েও লোকসান গুনছেন। কাজের অভাবে ঘাটশ্রমিকেরা চরম সঙ্কটে দিন কাটাচ্ছেন। আলীপুর মৎস্য আড়ত সমবায় মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, এভাবে চলতে থাকলে এই পেশা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্র বারবার বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ছে। পাশাপাশি নদী ও সমুদ্রের মোহনায় ১২-১৪ কিলোমিটার জুড়ে পলি পড়ে চর জেগে ওঠায় মাছের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। উপকূলবর্তী দূষণ, পলি ও রাসায়নিক দূষণ রোধসহ মোহনা খনন করা না গেলে কাক্সিক্ষত ইলিশের দেখা মেলা কঠিন হবে।



