ন্যাটো সরাসরি সঙ্ঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে : রাশিয়া

Printed Edition

তাস

ন্যাটোর জোটভুক্ত দেশগুলো রাশিয়ার সাথে সরাসরি সামরিক সঙ্ঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার গ্রুশকো। গতকাল বুধবার পূর্ব এশীয় অর্থনৈতিক ফোরামে প্রদত্ত এক বক্তব্যে তিনি সতর্ক করে জানান, পশ্চিমাদের বর্তমান সামরিক তৎপরতা ইঙ্গিত দেয় যে, বিষয়টি আর কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তবে যেকোনো মূল্যে জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমানা রক্ষায় মস্কো সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট জানান।

রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, উত্তর মেরু বা আর্কটিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তৈরি করছে পশ্চিমা দেশগুলো। উত্তরের এই অঞ্চলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে হাইব্রিড যুদ্ধ শুরু করা হলেও সেখানে পশ্চিমারা সামরিক আধিপত্য বিস্তারে সফল হতে পারবে না। অন্য দিকে বাল্টিক সাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক কর্মকাণ্ডের কারণে শান্ত এই এলাকাটি এখন সঙ্ঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যা অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে গ্রুশকো উল্লেখ করেন, কিয়েভ সরকারের সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মূলত পুনরায় সংগঠিত হওয়ার কৌশলমাত্র। তাই এ ধরনের সাময়িক পদক্ষেপে কোনো স্থায়ী সমাধান আসবে না। পাশাপাশি স্থগিত থাকা শস্যচুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে রাশিয়ার খাদ্য ও সার সরবরাহের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হয়নি, যার ফলে চুক্তিটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জার্মানিকে দায়ী করে গ্রুশকো জানান, বোনে অবস্থিত রুশ কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্তের জবাবে খুব দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নেবে মস্কো। তবে এই নিরাপত্তার টানাপড়েনের মধ্যেও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে উত্তর সমুদ্র পথ ধরে ইতোমধ্যে কনটেইনার পরিবহন শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই রুটে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে।