চব্বিশের অভ্যুত্থানে আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তারা কে কোথায়

এস এম মিন্টু
Printed Edition
  • ১৪১ জন বাধ্যতামূলক অবসর
  • ১৪২ জন ওএসডি/সংযুক্ত
  • ৯৩ জন সাময়িক বরখাস্ত

চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, দুই বছর পরও তার পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশ প্রশাসনে একের পর এক রদবদল, সংযুক্তি, ওএসডি, বাধ্যতামূলক অবসর ও সাময়িক বরখাস্তের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আলোচিত ও প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশকে কেবল এক ইউনিট থেকে অন্য ইউনিটে সরিয়ে দেয়াই কি জবাবদিহির শেষ ধাপ- এ প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে।

নয়া দিগন্তের হাতে থাকা পুলিশ সদর দফতরের অভ্যন্তরীণ নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৮ মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, ৮ রেঞ্জ ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার পর্যায়ে ৫ আগস্টের পর ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। কারো বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, কাউকে জনস্বার্থে অবসর দেয়া হয়েছে, আবার অনেককে বিভিন্ন রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়, প্রশিক্ষণকেন্দ্র কিংবা পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত পুলিশ সদর দফতরভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানে গুলি চালানোর অভিযোগে পুলিশের এক হাজার ৪৯০ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৮ জন গ্রেফতার এবং ৫৭ জন পলাতক। ১৪১ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ১৪২ জনকে ওএসডি বা বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত এবং ৯৩ জনকে পলাতক থাকার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

অর্থাৎ ৫ আগস্ট-পরবর্তী পুলিশ সংস্কারের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন শুধু ‘কে বদলি হলেন’ নয়- কে জবাবদিহির আওতায় এলেন, কার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার শেষ হলো এবং কারা এখনো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে প্রভাব ধরে রেখেছেন?

বদলি হয়েছে, কিন্তু অভিযোগের নিষ্পত্তি কোথায়?

পুলিশ প্রশাসনে ৫ আগস্টের পর ব্যাপক রদবদল হলেও নথির তথ্য বলছে, এর একটি বড় অংশ ছিল ‘সংযুক্তি’। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য কোনো দফতর বা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। এ ধরনের ব্যবস্থা প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় হতে পারে; কিন্তু গুরুতর অভিযোগ থাকলে তা নিজে কোনো শাস্তিমূলক নিষ্পত্তি নয়।

পুলিশ সদর দফতরের নথিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কারো ক্ষেত্রে জনস্বার্থে অবসর, কারো ক্ষেত্রে সাময়িক বরখাস্ত এবং কারো ক্ষেত্রে সংযুক্তির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে প্রতিটি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থাকা বিভাগীয় অভিযোগের চূড়ান্ত পরিণতি একইভাবে উল্লেখ নেই। এখানেই উঠে আসছে বড় প্রশ্ন- একজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে মাঠের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য দফতরে বসানো হলে তিনি কি সত্যিই জবাবদিহির বাইরে চলে যান?

২০২৬ সালের সাম্প্রতিক চিত্রও দেখাচ্ছে, পুলিশের ভেতরে এ নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাধ্যতামূলক অবসর, মামলা, বদলি ও পদোন্নতি নিয়ে অনিশ্চয়তা পুলিশ সদস্যদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভীত করে তুলছে। একই সাথে কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছেন, অপরাধ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সুনির্দিষ্ট দায় নির্ধারণ না করে শুধু আগের সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা বা রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট বলে বিবেচিত হওয়ার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া উচিত নয়।

অন্যদিকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জাতিসঙ্ঘও দায় নির্ধারণ, স্বাধীন তদন্ত এবং পুলিশে স্বচ্ছ নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও অপসারণের প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেছে।

কমিশনারদের মধ্যে বড় ধাক্কা

৫ আগস্টের আগে দায়িত্বে থাকা আট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের মধ্যে কয়েকজনকে দ্রুত অবসরে পাঠানো হয়। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো: মাহবুব আলমকে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট অবসরে পাঠানো হয়। রংপুরের মো: মনিরুজ্জামান, খুলনার মো: মোজাম্মেল হক এবং চট্টগ্রামের কৃষ্ণ পদ রায়কেও অবসরে পাঠানোর তথ্য রয়েছে। ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানকেও ৬ আগস্ট অবসরে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে ডিআইজি, টিএন্ডআইএম, ঢাকায় সংযুক্ত করা হয়। বরিশালের কমিশনার জিহাদুল কবির এবং সিলেটের কমিশনার মো: জাকির হোসেন খানকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

চট্টগ্রামের ঘটনা আরো তাৎপর্যপূর্ণ। কৃষ্ণ পদ রায়ের স্থলাভিষিক্ত মো: সাইফুল ইসলাম দায়িত্ব নেয়ার দেড় মাসের মাথায় ২২ আগস্ট ২০২৪ সাময়িক বরখাস্ত হন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে ওএসডি হন।

রেঞ্জ ডিআইজিদেরও বড় পরিবর্তন

রেঞ্জ পর্যায়েও একই চিত্র। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, চট্টগ্রামের নূরে আলম মিনা এবং রাজশাহীর মো: আনিসুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাদের বিভিন্ন দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মো: আব্দুল বাতেনকে জনস্বার্থে অবসর দেয়া হয়। ময়মনসিংহের শাহ আবিদ হোসেন, খুলনার মঈনুল হক, বরিশালের জামিল হাসান ও ইলিয়াছ শরীফসহ একাধিক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত করা হয়। অর্থাৎ শীর্ষ পর্যায়ে প্রশাসনিক বার্তা ছিল স্পষ্ট- আগের কাঠামো ভেঙে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা। কিন্তু নিচের প্রশ্নটি থেকেই গেছে: প্রশাসনিক সরানো আর অপরাধের বিচার কি একই বিষয়?

ঢাকার সাবেক এসপির ঘটনায় পলায়নের অভিযোগ

ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার মো: আসাদুজ্জামানের ঘটনাটি নথিতে বিশেষভাবে উঠে এসেছে। নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ঢাকার এসপি হিসেবে যোগ দেয়ার পর তাকে ২০২৪ সালের আগস্টে সরিয়ে রাজশাহীর বিপিএ সারদায় সংযুক্ত করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতারের অনুমতির তথ্য পাওয়া যায়। এরপর অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ ওঠে।

২০২৫ সালের ১৭ আগস্টের একটি স্মারকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধির আওতায় পলায়নের শাস্তিযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ার কারণে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্তের কথা উল্লেখ করা হয়।

এই ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থার গতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হতে প্রায় এক বছর সময় লাগার বিষয়টি জবাবদিহির কাঠামোর দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

৬৪ জেলার এসপিরাও ছিটকে পড়েন

জেলা পুলিশেও ৫ আগস্টের পর ব্যাপক রদবদল হয়েছে। গাজীপুরের কাজী শফিকুল আলম, মুন্সীগঞ্জের মোহাম্মদ আসলাম খান, মানিকগঞ্জের মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান, নরসিংদীর মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, কিশোরগঞ্জের মোহাম্মদ রাসেল শেখ এবং নারায়ণগঞ্জের গোলাম মোস্তফা রাসেলসহ একাধিক সাবেক এসপিকে বিভিন্ন রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। নারায়ণগঞ্জের গোলাম মোস্তফা রাসেলকে সাময়িক বরখাস্ত করেও বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত করার তথ্য রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের সাবেক এসপিদের মধ্যেও ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। চট্টগ্রামের এস এম শফিউল্লাহকে রংপুর রেঞ্জে, কক্সবাজারের মো: মাহফুজুল ইসলামকে এপিবিএনে, বান্দরবানের সৈকত শাহীনকে শিল্পাঞ্চল পুলিশে, খাগড়াছড়ির মুক্তা ধরকে নৌ পুলিশে এবং রাঙ্গামাটির মীর আবু তৌহিদকে সিআইডিতে বদলি করা হয়েছে।

নোয়াখালীর সাবেক এসপি মো: আসাদুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করে নীলফামারী ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়েছিল। পরে ২০২৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেফতারের তথ্য রয়েছে। লক্ষ্মীপুরের সাবেক এসপি মোহাম্মদ তারেক বিন রশীদের বিরুদ্ধেও অসদাচরণ ও পলাতক থাকার অভিযোগ নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

যশোরের সাবেক এসপি প্রলয় কুমার জোয়ারদার অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় অনুপস্থিত হওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত হন। বাগেরহাটের সাবেক এসপি আবুল হাসনাত খান সাময়িক বরখাস্তের পর গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকার তথ্যও রয়েছে।

সিরাজগঞ্জের সাবেক এসপি মো: আরিফুর রহমান মন্ডল, রংপুরের সাবেক এসপি মো: শাহজাহান এবং বগুড়ার সাবেক এসপি সুদীপ কুমার চক্রবর্তীর বিরুদ্ধেও সাময়িক বরখাস্তের তথ্য রয়েছে।

‘পুরনো চক্র’ এখনো সক্রিয়?

পুলিশের একাধিক সূত্রের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা কর্মকর্তাদের একটি অংশকে মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হলেও পুরোপুরি প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে নেয়া হয়নি। বিভিন্ন দফতরে সংযুক্ত থাকা এসব কর্মকর্তার কেউ কেউ এখনো প্রশাসনিক যোগাযোগ ও প্রভাব বজায় রাখছেন- এমন অভিযোগও রয়েছে।

তবে এই অভিযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংযুক্ত থাকা মানেই অপরাধে জড়িত থাকা নয়। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ থাকলে তা তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।

বরং এখানেই পুলিশ সংস্কারের মূল চ্যালেঞ্জ। ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলায় এক হাজার ৪৯০ পুলিশ সদস্যের নাম এসেছে। একই সাথে ১৪১ জন বাধ্যতামূলক অবসর, ১৪২ জন ওএসডি বা সংযুক্ত এবং ৯৩ জন সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।

অর্থাৎ দুই বছর পরও পুলিশ প্রশাসন একটি গভীর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বিচারের সাথে সংস্কারের দূরত্ব

জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও আরেকটি জটিলতা সামনে এসেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে চট্টগ্রামের একটি মামলায় পিবিআই ২৬ জন আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে, যাদের মধ্যে কয়েকজন সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাও ছিলেন। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আবার একই সময়ে জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ৯ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।

দু’টি ঘটনা পাশাপাশি রাখলে একটি বিষয় পরিষ্কার- অভিযোগ আর অপরাধ প্রমাণ এক জিনিস নয়। তাই পুলিশ সংস্কারের ক্ষেত্রে যেমন অপরাধীদের দায়মুক্তি দেয়া যাবে না, তেমনি নিরপরাধ কর্মকর্তাকেও রাজনৈতিক প্রতিশোধের শিকার করা উচিত নয়।

সামনে তিনটি বড় পরীক্ষা

পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা, গুরুতর অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পেশাদার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা- এই তিনটি এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিবেদনে পুলিশে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও অপসারণব্যবস্থা এবং স্বাধীন পুলিশ কমিশন প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়েছে। গুরুতর অসদাচরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের কথাও বলা হয়েছে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো- শুধু কমিশনার বদল, ডিআইজি সরানো, এসপিকে সংযুক্ত করা কিংবা কাউকে ওএসডি করলেই পুলিশ সংস্কার সম্পন্ন হয় না। সংস্কারের প্রকৃত মানদণ্ড হলো- অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণের ভিত্তিতে শাস্তি, নিরপরাধের সুরক্ষা এবং রাজনৈতিক নির্দেশের পরিবর্তে আইনের প্রতি আনুগত্য।

পুলিশ সদর দফতরের নথিতে ৫ আগস্ট-পরবর্তী রদবদলের যে দীর্ঘ তালিকা পাওয়া যায়, সেটি তাই কেবল বদলির তালিকা নয়; এটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা কাঠামোর একটি অস্থির সময়ের দলিল।

প্রশ্ন হলো, এই তালিকার শেষ কোথায়?

কত জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শেষ হয়েছে? কতজন আদালতে দণ্ডিত হয়েছেন? কতজন নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন? আর কতজন শুধু ‘সংযুক্ত’ থেকে আবারো গুরুত্বপূর্ণ পদে ফেরার অপেক্ষায়?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত ৫ আগস্ট-পরবর্তী পুলিশ পুনর্গঠনকে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার বলা কঠিন।

কারণ পদ বদলালে কর্মকর্তা বদলান; কিন্তু জবাবদিহির কাঠামো না বদলালে পুরনো সংস্কৃতিই নতুন নামে ফিরে আসতে পারে।