উজানের ঢল ও বৃষ্টিতে নতুন করে বন্যার শঙ্কা

বিপদসীমার উপরে চার নদীর পানি, ঝুঁকিতে তিস্তাপাড়সহ সিলেট-সুনামগঞ্জ; কুমিল্লা ও ঢাকার জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপর্যস্ত

Printed Edition
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এ অবস্থায় বকশিবাজার এলাকায় সড়কে নৌকায় চলাচল করেন সাধারণ মানুষ : নয়া দিগন্ত
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এ অবস্থায় বকশিবাজার এলাকায় সড়কে নৌকায় চলাচল করেন সাধারণ মানুষ : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবারো বন্যার শঙ্কা ঘনীভূত হয়েছে। টানা বর্ষণ এবং ভারতের মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে চারটি পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে তিস্তার পানিও গত সন্ধ্যায় বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে।

অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণে নগর ও গ্রামীণ জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুমিল্লায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় গতকাল এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় ২৭ ঘণ্টায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের ফলে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ত্রিপুরার পাহাড়ি ঢলের পানিতে সীমান্তবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

আমাদের স্থানীয় অফিস, জেলা ও উপজেলা সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্যে এসব খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে গতকাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় এ পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরো ৩৯ জন। সাতটি জেলায় আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এক লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো- খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলাগুলোর মোট ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া উপদ্রুত অঞ্চলগুলোর ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চার পয়েন্টে বিপদসীমার ওপরে নদীর পানি : বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী গতকাল সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত-

  • সুনামগঞ্জের ছাতকে সুরমার পানি ছিল বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে,
  • সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি ২৭ সেন্টিমিটার ওপরে,
  • সুনামগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার ওপরে এবং
  • নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করা মানেই তাৎক্ষণিক বড় বন্যা নয়; তবে যদি উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে এবং স্থানীয়ভাবে ভারী বর্ষণ হয়, তাহলে নিম্নাঞ্চল দ্রুত প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কেন বাড়ছে নদীর পানি ঃ আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। একইসাথে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এই বৃষ্টির পানি সীমান্তবর্তী নদ-নদী হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। বিশেষ করে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকা সম্পূর্ণভাবে ভারতের উজানের বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। ফলে উজানে কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিও বাংলাদেশের সিলেট ও সুনামগঞ্জে দ্রুত পানি বৃদ্ধি ঘটাতে পারে।

কোথায় কী ধরনের ঝুঁকি ঃ বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, আগামী দুই দিনে-

  • সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে;
  • সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর তীরবর্তী এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে;
  • নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বাড়তে থাকায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। গাইবান্ধায় তিস্তা এবং কুড়িগ্রামে ধরলা নদী সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

আখাউড়ায় উজানের ঢলে নতুন উদ্বেগ ঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সীমান্তবর্তী মোগড়া, মনিয়ন্দ ও দক্ষিণ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কালন্দি খাল ও জাজি নদী দিয়ে প্রবেশ করা ঢলের পানিতে কয়েকটি সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের নিচতলা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। যদিও আখাউড়া-আগরতলা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কুমিল্লায় নৌকায় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঃ টানা ভারী বর্ষণে কুমিল্লা নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হওয়ায় শহরের অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে চলে যায়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। অনেককে নৌকায় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়েছে। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশের জন্য নৌকা ও ভ্যানের ব্যবস্থা করে প্রশাসন। শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, বিলম্বে পৌঁছানো পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দেয়া হয়েছে।

ঢাকায়ও জলাবদ্ধতা ঃ রাজধানীতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আবহাওয়া অধিদফতরের হিসাবে ২৭ ঘণ্টায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক, বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ে। তবে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। এরপর আবার মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হলে ভারী বর্ষণ ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

১২৭ গেজ স্টেশনের ৮০টিতে পানি বৃদ্ধি ঃ বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি গেজ স্টেশনের মধ্যে ৮০টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ৪৪টি স্টেশনে পানি কমেছে এবং বাকি কয়েকটিতে পানি প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে।

অতীতের অভিজ্ঞতা যা বলছে ঃ সিলেট ও সুনামগঞ্জে বর্ষা মৌসুমে উজানের ঢলে আকস্মিক বন্যা নতুন ঘটনা নয়। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় এই অঞ্চলের লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল এবং কৃষি, মৎস্য ও অবকাঠামো খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বল্প সময়ে অতিভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ছে। ফলে আগাম সতর্কতা, নদী ব্যবস্থাপনা, জলাধার সংরক্ষণ এবং নগর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।

এ অবস্থায় করণীয় হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নদীতীরবর্তী মানুষকে নিয়মিত পূর্বাভাস অনুসরণ করা, প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার ও ওষুধ মজুদ রাখা, গবাদিপশুর নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। একইসাথে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত প্রস্তুতি ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রয়োজনে এটিকে আরো তথ্যসমৃদ্ধ করে ১৫০০-২০০০ শব্দের অনুসন্ধানধর্মী প্রতিবেদনও তৈরি করা যেতে পারে, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন, উজানের পানি ব্যবস্থাপনা, আন্তঃসীমান্ত নদী নীতি এবং গত ১০ বছরের বন্যার পরিসংখ্যান যুক্ত থাকবে।

তিস্তার পানি বিপদসীমার ১০ সেমি উপরে

নীলফামারী ও ডিমলা প্রতিনিধি জানান, ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক নূরুল ইসলাম জানান, সোমবার বিকেল থেকে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার পানি ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েটে বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ও ৭টা থেকে ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। ৭টা ১৫ মিনিটে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৫২ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। রাতে তিস্তার পানি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পানির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

এ দিকে তিস্তা নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষজনের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাব চৌধুরী জানান, তিস্তার পানি সন্ধ্যা থেকে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ব্যারাজের সব ক’টি জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে।

লালমনিরহাটে তৃতীয় দফা বন্যার শঙ্কা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, লালমনিরহাটের তিস্তাপাড় ও নিম্নাঞ্চলে চলতি মৌসুমে তৃতীয় দফার স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্লাবিত হতে শুরু করেছে চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও ফসলিজমি, যার ফলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের লাখো মানুষ। সোমবার দুপুর থেকেই তিস্তার পানি হু হু করে বাড়তে থাকে।

চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই তিস্তাপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না। গত মাসের শেষ দিকে প্রথম দফায় বিপদসীমা পার করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা হয়। এরপর গত বুধবার থেকে পানি বেড়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই সোমবার থেকে শুরু হলো তৃতীয় দফার বন্যার শঙ্কা।

বান্দরবানে সড়ক যোগাযোগ সচল

বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতির আরো উন্নতি হয়েছে। নিচু এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও সাঙ্গু, মাতা মুহুরি নদীর পানি এখনো বিপদসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেসব জায়গা থেকে পানি নেমে গিয়েছে সেসব এলাকায় এখন চরম দুর্ভোগে লোকজন। সেখানে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পানি ও কাদায় একাকার এলাকা। লোকজন এখন এসব পরিষ্কার করতে ব্যস্ত। এ ছাড়া বন্যা-পরবর্তী বিভিন্ন রোগবালাইয়ে ভুগছে লোকজন। সড়কের ওপর থেকে পানি নেমে যাওয়ায় বান্দরবানের সাথে চট্টগ্রাম কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। তবে থানচি, রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এখনো আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে কয়েক হাজার লোকজন অবস্থান করছে। ২০ হাজারেরও বেশি পরিবার এখনো পানিবন্দী রয়েছে। এসব জায়গায় জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে খিচুড়ি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।