এনডিটিভি
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বিশেষ অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন। সেই বার্তায় তিনি বেইজিংয়ের সাথে পিয়ংইয়ংয়ের দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরো মজবুত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। দীর্ঘদিনের এই সমাজতান্ত্রিক বন্ধনকে কিম ‘ঐতিহাসিক’ বলেও অভিহিত করেন।
এর আগে, গত ৮ ও ৯ জুন উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে দুই দেশের এই শীর্ষ নেতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের এই উত্তর কোরিয়া সফরকে একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখছেন কিম জং উন। ওই ঐতিহাসিক সফরে দুই নেতাই পারস্পরিক সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা এবং সমরাস্ত্র ও কৌশলগত সহযোগিতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে হাজার হাজার উত্তর কোরীয় সেনাও পাঠানো হয়েছে। তবে মস্কোর সাথে এই ঘনিষ্ঠতার পরও চীনই যে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় ও নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক অংশীদার, তা স্পষ্ট। ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৮ শতাংশই সম্পন্ন হয়েছে চীনের সাথে।
এ দিকে, ভূ-রাজনৈতিক এই সমীকরণের মধ্যেই সিউলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। ওই বৈঠকে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে বন্দী হওয়া উত্তর কোরিয়ার সেনাদের ভাগ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্দী দশা থেকে মুক্তি পেলে উত্তর কোরিয়ার দুই সেনা সদস্য দক্ষিণ কোরিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সিউল প্রশাসনও জানিয়েছে, এই বন্দী সেনাদের নিজেদের দেশে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।



