শফিকুল আলম ভূঁইয়া রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
অতিবৃষ্টিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বেড়িবাঁধ এলাকার ভেতরে প্রতি বছরই সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। এতে ডুবে যাচ্ছে রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। দীর্ঘদিন ধরে এ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা ও আশপাশের অন্তত ১২টি গ্রামের হাজারো মানুষ। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত নানা রোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম খালগুলো দখল, ভরাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাময়িক উদ্যোগ নেয়া হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
সরেজমিন দেখা যায়, কাঞ্চন পৌরসভার কাঞ্চন, কালাদী, নলপাথর, ডুলুরদিয়া, টেকপাড়া এবং মুড়াপাড়া-গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের হাটাব, বাড়ইপাড়া, আমলাব ও পিঠাকুড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতায় নিদারুণ কষ্ট করতে হচ্ছে এলাকার বাসিন্দাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে জাইকার অর্থায়নে এসব এলাকার পানি নিষ্কাশন ও কৃষিকাজের সুবিধার জন্য বানিয়াদী থেকে গোলাকান্দাইল এবং কাঞ্চনের কালাদী থেকে গোলাকান্দাইল পর্যন্ত দু’টি বড় সেচ খাল খনন করা হয়। এর পাশাপাশি সুতালরির খাল, দাগিরমার খাল, মাউচ্চা বিলের খাল, কানী বিলের খাল ও টাটকির খালসহ কয়েকটি শাখা খাল তৈরি করা হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য বানিয়াদী এলাকায় নির্মাণ করা হয় স্লুইস গেট এবং স্থাপন করা হয় চারটি সেচ পাম্প।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব খালের রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় খালের বিভিন্ন অংশ দখল ও ভরাট হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কালাদী থেকে গোলাকান্দাইল পর্যন্ত খালের একটি বড় অংশ ঢাকা বাইপাস সড়ক সম্প্রসারণের সময় ভরাট হয়ে যায়। কাঞ্চন দক্ষিণ বাজার এলাকায় উকিল বাড়ির খালের ওপর গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। টেকপাড়া থেকে পিঠাকুড়ি পর্যন্ত শাখা খালের ওপরও তৈরি হয়েছে অবৈধ স্থাপনা ও বাগানবাড়ি।
এ ছাড়া বানিয়াদী স্লুইস গেট থেকে গোলাকান্দাইল পর্যন্ত প্রধান খালের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য, গৃহস্থালির আবর্জনা ও অবৈধ স্থাপনার কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন শিল্পকারখানার বর্জ্য ও দখলের কারণেও টাটকির খাল, সুতালরির খাল ও দাগিরমার খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঢাকা বাইপাস সড়কের পাশে গড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি বালুর ডিপো থেকেও অতিরিক্ত পানি বেড়িবাঁধ এলাকার ভেতরে ঢুকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। খালগুলোর বিভিন্ন স্থানে পানি আটকে থাকায় উজানের পানি বানিয়াদী খালে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে এসব খালে স্লুইস গেট ও সেচ পাম্প স্থাপন করা হলেও পানি নিষ্কাশনে এসবের কোনো ভূমিকা নেই।
কাঞ্চন এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, প্রতি বছর বর্ষায় আমাদের বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। খালগুলো দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করা হলে এ সমস্যার সমাধান হতো।’
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থায়নে অধিগ্রহণ করা খালগুলো উদ্ধার করে পুনঃখনন করা হোক। এছাড়া খালের যেসব এলাকা ভরাট হয়ে গেছে, সেসব এলাকায় বিকল্প পানিপ্রবাহের ব্যবস্থা করা হোক। একই সাথে খালের ওপরে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নিয়মিত তদারকি এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান এলাকাবাসী। তাদের আরো, বানিয়াদী স্লুইস গেটের সাথে খালগুলোর পুনঃসংযোগ স্থাপন করা হোক। সেই সাথে শীতলক্ষ্যা নদীতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনেরও ব্যবস্থা করতে হবে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয়দের নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খালের ওপর থাকা অবৈধ স্থাপনা স্বেচ্ছায় সরিয়ে নিতে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরিয়ে নেয়া না হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।



