নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ইসরাইলি হামলা, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশের সঙ্কটের কারণে গাজা উপত্যকার ৭০ শতাংশ অ্যাম্বুলেন্স ও রোগী পরিবহন যান অচল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে যে অল্পসংখ্যক যানবাহন চলছে সেগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক এবং দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে অক্ষম। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে আনাদোলু এ খবর জানিয়েছে,
মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, টায়ার ও খুচরা যন্ত্রাংশ প্রবেশে বাধা অব্যাহত থাকলে স্বাস্থ্যখাতের পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হাসপাতালে পৌঁছানো আরো কঠিন হবে। একই সাথে পরিবহন কোম্পানির বাসগুলোও দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই চলাচল করছে, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এ অবস্থায় জরুরি চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়ায় অবস্থিত কামাল আদওয়ান হাসপাতালে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় হাসপাতালের ভেতরের আঙিনায় তিনজন এবং আশপাশে আরো তিনজন আহত হন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ হামলাকে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর ‘পদ্ধতিগত হামলার’ অংশ বলে উল্লেখ করেছে। তারা জানায়, হাসপাতালটি তথাকথিত ‘গ্রিন জোনে’ থাকা সত্ত্বেও হামলা চালানো হয়েছে। একই দিনে গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি হামলায় আওরা অন্তত এক ডজন মানুষ আহত হন।
নিহত বেড়ে ৭৩ হাজার ২২১,ধ্বংসস্তূপে এখনো হাজারো লাশ
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ২২১ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন এক লাখ ৭৩ হাজার ৬৪৩ জন। গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন হামলায় ছয়জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ধ্বংসস্তূপ থেকে আরো একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সেইসাথে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই শেষে আরো ৯৬ জনকে নিহতের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজারো লাশ আটকে রয়েছে।



