জসিম উদ্দিন রানা
আইসিসির রেভিনিউ শেয়ারিং ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আয় প্রধানত বিপিএল, সিরিজ এবং অন্যান্য টুর্নামেন্টে টিকিট বিক্রি থেকে আয়, টিভি ব্রডকাস্টিং রাইটস, খেলা সম্প্রচার অধিকার বিক্রি, স্পনসরশিপ ও বিজ্ঞাপন, অন্যান্য উৎস (ব্যাংক ইন্টারেস্ট, বিভিন্ন ছোট আয় ইত্যাদি) থেকে আসে।
এসব খাত থেকে বিসিবির বার্ষিক সর্বমোট আয় আনুমানিক ৩৫০ কোটি টাকা। আইসিসি রেভিনিউ বিসিবির প্রকৃত নেট আয়ের মূল উৎস। তবে কোনো বছর যদি এশিয়া কাপের মতো বৈশ্বিক কোনো ইভেন্ট বাংলাদেশে আয়োজিত হয়, সে আয় ২০-২৫% বাড়তে পারে। আইসিসির রেভিনিউ শেয়ারের অর্থ ছাড়া বাকি খাত থেকে প্রাপ্ত অর্থের ৬০-৭০ ভাগ ম্যাচ আয়োজনসহ অন্যান্য খাতে বিসিবির খরচ হয়ে যায়। বিশেষ করে জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশগুলোর সাথে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনসহ ঘরোয়া ক্রিকেট লিগগুলোতে অধিকাংশ সময় আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় প্রাপ্ত রেভিনিউ নেট আয় বলে বিবেচ্য নয়। সে বিবেচনায় আইসিসি থেকে প্রাপ্ত রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের পুরোটাই নেট আয়, কারণ তাতে কোনো খরচ নেই, উপরন্তু সে অর্থ ব্যাংকে এফডিআর রেখে একটি ভালো অঙ্কের আয় আসে ইন্টারেস্ট থেকে।
২০২৪-২০২৭ সাল পর্যন্ত আইসিসির বার্ষিক মোট আয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন। আইসিসির কেন্দ্রীয় আয়ের অংশ হিসেবে বিসিবি প্রতি বছর প্রায় ২৬.৭৪ মিলিয়ন অর্থাৎ প্রায় ২৮০-২৯০ কোটি টাকা রেভিনিউ শেয়ারিং পায়, যেটা আইসিসির মোট বার্ষিক রাজস্বের ৪.৪৬% এর কাছাকাছি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের তথা বিসিবির প্রাপ্তি কোন অংশেই ৩৫-৪০% বেশি নয়। যা কেউ কেউ মোস্তাফিজ ইস্যুকে সামনে এনে বলছেন শতকরা ৯০ ভাগ আসে আইসিসি থেকে। সুতরাং আইসিসির সাথে বিরোধ নয়, তারা যা বলে তা মানা উচিত।
আইসিসি থেকে প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি শেয়ারিং অর্থ পায় ভারত ৩৮.৫% (২৩০-২৩১ মিলিয়ন)। এর পর যথাক্রমে ইংল্যান্ড ৪১.৩ মিলিয়ন, অস্ট্রেলিয়া ৩৭.৫, পাকিস্তান ৩৪.৫, নিউজিল্যান্ড ২৮.৪, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৭.৫, শ্রীলঙ্কা ২৭.১, বাংলাদেশ ২৬.৭, দক্ষিণ আফ্রিকা ২৬.২, আয়ারল্যান্ড ১৮, জিম্বাবুয়ে ১৭.৬, আফগানিস্তান ১৬.৮ মিলিয়ন ডলার শেয়ারিং অর্থ পেয়ে থাকে। সহযোগী দেশগুলো মোট ৬৭ মিলিয়ন ডলার আয়ের সুযোগ পায়। অর্থাৎ, ১২টি ফুল মেম্বার বোর্ড মোটের প্রায় ৮৮.৮% আয় ভাগ করে নেয় এবং বাকি ১১.২% সহযোগী সব দেশগুলো মিলিয়ে পায়। বিশেষ করে ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বেশি শেয়ার পায়, কারণ তারা মিডিয়া রাইটস ও বাণিজ্যিক আয়ের ক্ষেত্রে বেশি অবদান রাখে।
উক্ত আয় বিসিবির মিডিয়া রাইটস, স্পন্সরশিপ ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় আয় থেকে আসে এবং তার একটি নির্দিষ্ট শতাংশ হিসেবে সদস্য বোর্ডগুলোকে দেয়া হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মোট বার্ষিক এই রেভিনিউ শেয়ারিং থেকেই আসে। যদিও এই আয় কোনো অনুদান নয়, দলের ভালো ফলাফলের জন্য এই অর্থ আয় করে থাকে।
বিসিবির এক পরিচালকের মতে, ভারত বিরোধিতার সাথে যারা আইসিসির বিরোধিতা করছেন, তারা গুলিয়ে ফেলছেন। বিসিবি অবশ্যই কূটনৈতিক দক্ষতা দিয়ে, মাথা উঁচু করে আইসিসি এবং তার সদস্য দেশগুলোর সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলে ন্যায্য দাবি আদায় করে নেবে। মোস্তাফিজ ইস্যুতে প্রয়োজনে ভারত ছাড়া আইসিসির অন্যান্য সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ কূটনৈতিক শক্তি ব্যবহার করবে। মোস্তাফিজ ইস্যুতে সমালোচকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। আইসিসির সাথে বিরোধ করে যারা দেশের ক্রিকেটকে ধ্বংস করে জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিতে চায়, তা প্রতিহত করা সময়ের দাবি।



