চট্টগ্রাম ব্যুরো
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, বাঁশখালী এবং সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার মানুষ বন্যার কারণে আজ খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের প্রায় চারটি বিভাগে বন্যায় মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আপনাদের এলাকার জনপ্রতিনিধি (এমপি) সংসদে এলাকার দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেছেন। আজকে আমরা এসে আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছি, সামান্য উপহার দেয়ার চেষ্টা করেছি। ফিরে গিয়ে সংসদে সরকারকে সব কিছু অবহিত করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি গতকাল টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে এসে উপরোক্ত কথা বলেন।
সকাল ৮টায় জামায়াত আমির বিমানযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছে সরাসরি বন্যাকবলিত বাঁশখালী এবং সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন। পরিদর্শনকালে তিনি দেখেন, অনেক ঘরবাড়ী এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে এবং অসংখ্য পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ডা: শফিকুর রহমান এ সময় বলেন, এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পরিদর্শন শেষে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন, আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। দুপুর ১২টায় বাঁশখালী বাণীগ্রামের একটি কমিউনিটি সেন্টারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ বিতরণ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের ফলে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি বহু পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে।
বিকেলে ডা: শফিকুর রহমান চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম, শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ, চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম অঞ্চল টীম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, উত্তর জেলার আমির আলাউদ্দিন শিকদার, দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক, চট্টগ্রাম পশ্চিম জেলা শিবিরের সভাপতি ফরমানুর রহমান জাহিন, সাতকানিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দীন, বাঁশখালী উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা ইসমাইল, সাতকানিয়া উপজেলা সেক্রেটারি তারেক হোসাইনসহ মহানগরী ও জেলার স্থানীয় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
দেশটা সরকারি দলের না, আঠারো কোটি মানুষের
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, দেশটা সরকারি দলের না, আঠারো কোটি মানুষের বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘দেশের ৯০টি আসনের মানুষ আমাদেরকে সমর্থন দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছে। দেশটা শুধু সরকারি দলের না, আঠারো কোটি মানুষের। আমরা সংসদে আছি। সরকারের ভালো কাজের যেমন প্রশংসা করব তেমনি জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তে আমরা গর্জে উঠব। আমাদের যুদ্ধ দুর্নীতি, লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে।’ বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেন, ‘সাতকানিয়া ও বাঁশখালী দু’টি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি আমি দেখেছি। তুলনামূলকভাবে বাঁশখালীতে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিভাগে বন্যা হলেও বাঁশখালীর পরিস্থিতি বেশি খারাপ হওয়ায় আমি সবার আগে এখানে এসেছি। আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের পক্ষ থেকে বিপদগ্রস্ত ভাইদের জন্য উপহার নিয়ে এসেছি। আমরা সংগঠনের সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। যেখানে মানুষ বিপদের সম্মুখীন হবে সেখানেই আমরা ছুটে যাব। চট্টগ্রাম বিভাগে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে আমাদের পক্ষ থেকে প্রত্যেকের বাড়িতে মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা করে পৌঁছে দেয়া হবে।’
বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বন্যাকবলিত স্থান পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান, সাতকানিয়া লোহাগাড়ার এমপি শাহজাহান চৌধুরী, ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম, বাঁশখালীর ইউএনও রুহুল আমিন, এসিল্যান্ড ওমর সানী আকন, এএসপি মাহমুদুল হাসান, ওসি রবিউল হকসহ জামায়াতের জেলা ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



