যৌথ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ

সাংবাদিকদের দশম ওয়েজ বোর্ড ও মহার্ঘ্য ভাতার দাবি

Printed Edition
দশম ওয়েজবোর্ড গঠনের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএফইউজে ও ডিইউজে সমাবেশে সাংবাদিকরা অংশ নেন : নয়া দিগন্ত
দশম ওয়েজবোর্ড গঠনের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএফইউজে ও ডিইউজে সমাবেশে সাংবাদিকরা অংশ নেন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

গণমাধ্যমকর্মী ও সংবাদপত্রসেবীদের জন্য অবিলম্বে দশম ওয়েজ বোর্ড গঠন ও অন্তর্বর্তীকালীন মহার্ঘ্য ভাতা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দৈনন্দিন ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে সাংবাদিক সমাজ তীব্র আর্থিক সঙ্কটে দিশাহারা। ২০১৯ সালে সাংবাদিকদের জন্য ঘোষিত ‘নবম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ’ নানা আইনি ও প্রশাসনিক অজুহাতে অনেক সংবাদমাধ্যম আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও সাংবাদিকদের জন্য নতুন ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়ন কমিটি গঠনে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

সরকার এর আগে নবম ও অষ্টম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করেছে; কিন্তু অধিকাংশ পত্রিকা তা মানে না। বিএফইউজে ও ডিইউজে থেকে ইতোমধ্যে ৩৯ দফা দাবি জানানো হয়েছে। এর প্রধানতম দাবি ছিল- ‘নো ওয়েজ বোর্ড, নো মিডিয়া’। তাই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মালিকপক্ষকে জানিয়ে দিতে চাই, আপনি পত্রিকা চালাবেন, নবম ওয়েজ বোর্ড, দশম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন করেছেন বলে সরকার থেকে বিজ্ঞাপন নেবেন, আর সাংবাদিকদের বেতন দেবেন না- সেটি বাংলাদেশে হতে দেয়া হবে না।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো: শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন, ডিআরইউর সাবেক সভাপতি মুরসালিন নোমানী, বিএফইউজের সহসভাপতি মুহাম্মদ খায়রুল বাশার, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, ডিইউজের সহসভাপতি রফিক মুহাম্মদ ও রাশেদুল হক, বিএফইউজের নেতা মোদাব্বের হোসেন, বাসস এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো: জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী সাংবাদিকদের জন্য অবিলম্বে দশম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা ও কার্যকর করার দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘সরকার যেভাবে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছেন, সেভাবে সাংবাদিকদের বেতনও বাড়িয়ে অবিলম্বে দশম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করতে হবে।’

গনি চৌধুরী বলেন, নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারি কর্মচারীরাও দিনযাপনের কষ্টে রয়েছেন। সরকার তার সরকারি কর্মচারীদের বেতনভাতা বাড়িয়েছেন, এতে তারা আনন্দিত ও খুশি হয়েছেন। তবে বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছেন সাংবাদিকরা।

বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, ‘সিনিয়র সাংবাদিকরা মারা যাচ্ছেন; কিন্তু হাসপাতালের বিলটাও দিতে পারেন না। সিনিয়র সাংবাদিকরা ৪০ বছর সাংবাদিকতা করেছেন, তাদের গ্রামের বাড়িতে লাশ বহন করার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াটাও এখন জোগাড় করতে পারেন না। এত কষ্টের মধ্যেই বাংলাদেশের সাংবাদিকরা আছেন। অথচ সবচেয়ে শ্রম বেশি ব্যয় করতে হয় সাংবাদিকদেরকে।’

এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি তথ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, যুগের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সাংবাদিকদের জন্য অবিলম্বে দশম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করুন।

ডিইউজের সভাপতি মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, দেশে এখন নির্বাচিত সরকার এসেছে। আমরা চাই আপনারা সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ান। যেসব সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, সেসব সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের প্রণোদনা দিতে হবে। দশম ওয়েজ বোর্ড গঠন করে, তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন মহার্ঘ্য ভাতা ঘোষণা এবং বকেয়াসহ নবম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়ন না করলে সাংবাদিক সমাজ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম বলেন, বিদ্যুতের দাম একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে পাশাপাশি তেল, সবজি, চাল, ডাল, আটা, রুটি, কাপড়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় সাংবাদিকরা যে বেতন পান, তা দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, অতীতে সরকারি কর্মচারীদের চেয়ে সাংবাদিকদের বেতন বেশি ছিল। সরকারি কর্মচারীরা নানা সুযোগ-সুবিধা পান, যা সাংবাদিকরা পান না। সরকারি কর্মচারীরা সাপ্তাহে দুই দিন ছুটি পান, সাংবাদিকরা ছুটি পান এক দিন। এসব বিবেচনা করে সাংবাদিকদের বেতন স্কেল সবসময় সরকারি কর্মচারীদের চেয়ে বেশি করা হয়েছিল। তাই অতীতের সেই পথ অনুসরণ করে অবিলম্বে সাংবাদিকদের জন্য দশম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণার জন্য তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানান।