নিজস্ব প্রতিবেদক
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের চার বিভাগে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এগুলো হলো রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে রেকর্ড বৃষ্টিপাত এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একযোগে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের চার জেলা এবং সিলেট বিভাগের নিচু এলাকাগুলো এখন প্লাবিত হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ফলে জেলাগুলোতে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল এবং নি¤œাঞ্চলের শত শত একর ফসলি জমি বিশেষ করে আউশ ধান ও সবজিক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন দুর্গত এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় লঘুচাপের বর্ধিতাংশের কারণে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে আগামী আরো অন্তত তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই সাথে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ঝড়ো হাওয়ার বিশেষ সতর্কবার্তাও জারি করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে তিস্তার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি : উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে উত্তরবঙ্গের নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে বিপদসীমার ছুঁইছুঁই করছে। পানির চাপ সামলাতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট (গেট) একযোগে খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কুড়িগ্রামের ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
সিলেট-সুনামগঞ্জে হুহু করে বাড়ছে নদীর পানি : ভারতের মেঘালয় ও আসামের পার্বত্য অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সুরমা, কুশিয়ারা ও সারিগোয়াইন নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে পাহাড়ি ঢলে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া গোয়াইনঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতক, দোয়ারাবাজার ও তাহিরপুরের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আগামী তিন দিনে নদীগুলোর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা আছে।



