গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাকে নতুন সঙ্কটে ফেলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড ‘একভাবে না হয় অন্যভাবে’ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসবে। তার এ বক্তব্য ইউরোপে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল কূটনৈতিক আগ্রাসন নয়; বরং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী উচ্চাকাক্সক্ষার প্রকাশ। ইউরোপীয় নেতারা এখন বড় প্রশ্নের মুখে-যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঐতিহ্যগত জোট বজায় রাখা হবে, নাকি ইউরোপের স্বার্থে কঠোর অবস্থান নেয়া হবে?
যদি যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্কের অংশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে তা কার্যত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সে ক্ষেত্রে ইউরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি দখল, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং প্রযুক্তি কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনকি সরাসরি হামলা না হলেও ইউরোপের উচিত এখনই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো। ন্যাটোর বাইরে একটি ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দাকাঠামো গড়ে তোলা, ডিজিটাল ইউরো চালু এবং মার্কিন প্রযুক্তি আধিপত্য ভাঙার আহ্বান জোরালো হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে যুক্ত উগ্র ডানপন্থী শক্তিগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভাঙতে সক্রিয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাই দেরি করলে মূল্য আরো বাড়বে- এমন সতর্কবার্তা দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। ইউরোপ এখন দুই পথের মোড়ে দাঁড়িয়ে, একটি হলো নিজের শর্তে সঙ্কট বেছে নেয়া, অন্যটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেয়া সঙ্কটে ভেসে যাওয়া। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।



