চিকিৎসক সঙ্কটে বেহাল চরফ্যাসন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

Printed Edition

কামরুজ্জামান চরফ্যাসন (ভোলা)

  • চিকিৎসক ও সরঞ্জাম সঙ্কট চরমে
  • ৭ লাখ মানুষের ভরসা ১৭ চিকিৎসক
  • ১ ডাক্তারের মাথায় ৪১ হাজার রোগী

ভোলার উপকূলীয় চরফ্যাশন উপজেলায় প্রায় সাত লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, কনসালট্যান্ট ও অন্যান্য জনবল সঙ্কটের পাশাপাশি আধুনিক ল্যাব ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। এক্স-রে মেশিন থাকলেও নেই রেডিওগ্রাফার। এমনকি রক্তের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সিবিসির জন্যও প্রয়োজনীয় মেশিন নেই। ফলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি দুর্ভোগও পোহাতে হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫২টি মেডিক্যাল অফিসার পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৭ জন। ১০ জন কনসালট্যান্ট পদে আছেন মাত্র দুইজন। ৩০ জন নার্সের বিপরীতে রয়েছেন ২৮ জন। ১৬ সেকমো পদের মধ্যে কর্মরত দুইজন। পাঁচ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মধ্যে আছেন দুইজন। তিন ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্টের মধ্যে দুইজন কর্মরত থাকলেও তিন ফার্মাসিস্টের পদে বর্তমানে কেউই নেই। অভিযোগ রয়েছে, মেডিক্যাল অফিসারদের অনেকেই হাসপাতালে নিয়মিত না থেকে ব্যক্তিগত চেম্বার নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।

শিশু, গাইনি ও হৃদরোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের অন্যত্র যেতে হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশু রোগীদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে এসে কাক্সিক্ষত সেবা না পেয়ে বেসরকারি হাসপাতালেই চলে যান।

হৃদরোগী মো: রতন মিয়া বলেন, জরুরি সময়ে হাসপাতালে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সপ্তাহে শুক্রবার বেসরকারি হাসপাতালে আসা চিকিৎসকের ওপরই নির্ভর করতে হয়।

ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন বলেন, চরফ্যাসনের মতো এমন বড় একটি উপজেলায় অন্তত একজন শিশু ও একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ থাকা প্রয়োজন। গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ হাসপাতালেই নিশ্চিত করা উচিত।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আশরাফুল ইসলাম সুমন বলেন, চিকিৎসক, নার্সসহ বিভিন্ন পদে জনবল এবং রেডিওগ্রাফার ও আধুনিক ল্যাবের সরঞ্জামের চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালটি অবকাঠামোগতভাবে ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না থাকায় সঙ্কট তৈরি হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।