রয়টার্স
ভারতশাসিত কাশ্মিরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্বে এই বিক্ষোভে অংশ নেন শত শত মানুষ। এ সময় তারা হিমালয় কোলঘেঁষা অঞ্চলটির রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে সোচ্চার স্লোগান দেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তরের সাত বছর পর রাজ্যের মর্যাদা পুনর্দখলের দাবিতে দিল্লিতে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচিতে বাধা প্রদান করেছে। নিজস্ব বার্তায় বিক্ষোভের ছবি ও ভিডিও যুক্ত করে তিনি লেখেন, ‘আমাদের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা, আমাদের অধিকার ও আত্মসম্মানসহ যা কিছু ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে- তা পুনরুদ্ধারের লড়াই সবেমাত্র শুরু হলো।’
২০১৯ সালের আগস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার জম্মু ও কাশ্মিরের আংশিক স্বায়ত্তশাসন সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ বাতিল করে। সেই সাথে রাজ্য ভেঙে দু’টি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করা হয়; যার একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মির ও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জম্মু নিয়ে গঠিত এবং অন্যটি বৌদ্ধ অধ্যুষিত লাদাখ অঞ্চল। পরবর্তী সময়ে ভারত সরকার একাধিকবার ঘোষণা দেয়, ‘উপযুক্ত সময়ে’ অঞ্চলটির পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া হবে; তবে এর কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
ওমর আবদুল্লাহ ও তার রাজনৈতিক দল জম্মু অ্যান্ড কাশ্মির ন্যাশনাল কনফারেন্সের দাবি, কেন্দ্র সরকারের পূর্বপ্রতিশ্রুতি মেনে অনতিবিলম্বে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহাল করা উচিত। অন্য দিকে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান আঞ্চলিক সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে সরাতেই এই আন্দোলন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, কাশ্মিরকে পুরো অঞ্চল হিসেবে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই নিজেদের দাবি করলেও তারা কেবল এর ভিন্ন ভিন্ন অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। পাশাপাশি ভারতশাসিত কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে আন্দোলনরত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ইন্ধন দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে আসছে নয়াদিল্লি, যা ইসলামাবাদ বারবার অস্বীকার করে এসেছে।



