তৃতীয় দিনে এসে থেমেছে পুঁজিবাজার সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা

ডেরিভেটিভ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনে ব্রোকারদের এমসিএক্স সফর

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

মাত্র তৃতীয় দিনের মাথায় পুঁজিবাজার সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থমকে গেছে। বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে দেশের দুই পুঁজিবাজারই লেনদেনের শেষভাগে এসে বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে। এতে ঢাকা শেয়ারবাজারে সবগুলো সূচক নামমাত্র উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হলেও চট্টগ্রামে সূচকের আচরণ ছিল মিশ্র। এ সময় উভয় বাজারেই দরপতনের শিকার হয় লেনদেনে অংশ নেয়া বেশির ভাগ কোম্পানি ও ফান্ডের শেয়ার। একই সাথে কমেছে বাজারগুলোর লেনদেনও।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজার এখনো পুরোপুরি আস্থায় নেই। তা ছাড়া গত দু’দিন সূচকের উন্নতি ঘটায় বাজারের মূল্যস্তরে যে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছিল তা থেকে মুনাফা তুলে নিতে গিয়েই গতকাল সৃষ্টি হয় বিক্রয়চাপ। তবে তারা আশাবাদী আগামী সপ্তাহের শুরুতে বাজার পুনরায় গতি ফিরে পাবে। কারণ বেশ কিছু খাতের মূল্যস্তর বিগত ধারাবাহিক দরপতনের সময় বিনিয়োগের জন্য যথেষ্ট ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক, বীমা, সিমেন্ট ও সিরামিক-সহ বেশ কয়েকটি খাতে পতনের সময় ব্যাপক সংশোধন ঘটে। তা ছাড়া গতকাল সবচেয়ে বেশি দরপতনের শিকার টেক্সটাইল খাতেও নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দেশের প্রধান পুঁজিাবজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি গতকাল ১ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ৫ হাজার ৬৬০ দশমিক ৪১ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি দিনশেষে স্থির হয় ৫ হাজার ৬৬২ দশমিক ০৯ পয়েন্টে। তবে লেনদেন শুরুর মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় সূচকটি প্রায় ৩৫ পয়েন্ট উন্নতি রেকর্ড করা হয়। সূচকের এ অবস্থান থেকেই মূলত বিক্রয়চাপের শুরু। পরবর্তী সময়ে বেশ ক’বার বাজারটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও দিনের শেষদিকে বিক্রয়চাপের তীব্রতা তা হতে দেয়নি। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচকটি ১৫ দশমিক ২৪ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। বিশেষায়িত অপর সূচক ডিএসই শরিয়াহ এ সময় ২ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এ দিন সূচকের আচরণ ছিল মিশ্র। এখানে সিএসই-৩০ সূচকটি ৭২ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বাড়লেও সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ও সিএসসিএক্স সূচক যথাক্রমে ৮ দশমিক ০৫ ও ২ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট হারায়।

লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিক্রয়চাপের ফলে গতকাল ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতিও কিছুটা হ্রাস পায়। এ দিন ডিএসইতে ৭২০ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয় যা আগের দিনের চেয়ে ১১ কোটি টাকা কম। বুধবার ডিএসই’র লেনদেন ছিল ৭৩১ কোটি টাকা। লেনদেন কমেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। বাজারটি গতকাল ১৫ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের দিন অপেক্ষা আট কোটি টাকা কম। বুধবার সিএসই’র লেনদেন ছিল ২৩ কোটি টাকা।

এ দিকে স্টক এক্সচেঞ্জের কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ ও ডেরিভেটিভস ট্রেডিংয়ের ব্যবসায়িক মডেল সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে দেশের পুঁজিবাজারের শীর্ষস্থানীয় ৯টি ব্রোকারেজ হাউজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ভারত সফর করছে সিএসই। প্রতিনিধিদলটি ভারতের মুম্বাইয়ে অবস্থিত মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (এমসিএক্স) এবং কয়েকটি ব্রোকারেজ অফিস পরিদর্শন করেছে। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সিএসইর ব্রোকারদের এই প্রতিনিধিদল ৩০ আগস্ট থেকে এমসিএক্স ইন্ডিয়া সফরে রয়েছে। ব্রোকারেজ হাউজে কমোডিটি ডেরিভেটিভস ট্রেডিংয়ের নিয়ম ও প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিনিধিদল সরেজমিন অভিজ্ঞতা অর্জন করছে।

চেলা সফট প্রাইভেট লিমিটেড আয়োজিত দীর্ঘ কর্মশালায় অংশ নেন এমসিএক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মৃগাঙ্ক পারাঞ্জ্যাপে। ৩০ আগস্ট মুম্বাইয়ে অবস্থিত দ্য ললিত মুম্বাইয়ের সভাকক্ষে ‘অপারেশনাল আসপেক্টস অব কমোডিটি ডেরিভেটিভস : আ ব্রোকারেজ পারস্পেক্টিভ’ শীর্ষক কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন ছিলেন এমসিএক্স’র প্রাক্তন চিফ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অফিসার গিতেশ শাহ এবং চেলা সফটের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুব্বাইয়া রাজাগোপাল। ১ সেপ্টেম্বর তারা এমসিএক্স ইন্ডিয়ার অফিস পরিদর্শন করেন। সেখানে ‘অপারেশনাল প্রসিডিউরস : এক্সচেঞ্জ-টু-ব্রোকার ইন্টারফেস’ বিষয়ে উপস্থাপনা পর্বে যোগদানের পর এমসিএক্স ক্লিয়ারিং করপোরেশন লি. (সিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এমসিএক্সের সাবেক চিফ বিজনেস অফিসার ঋষি নাথানির সাথে বৈঠক করেন।

সিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক এ কে এম শাহরোজ আলম ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো: ফয়সাল হুদার নেতৃত্বে লংকা-বাংলা সিকিউরিটিজ, ওয়ান সিকিউরিটিজ, বি রিচ, ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজ, পূবালী ব্যাংক সিকিউরিটিজ, ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ, এমটিবি সিকিউরিটিজ এবং এনএলআই সিকিউরিটিজের সমন্বয়ে নয় ব্রোকারের দল এমসিএক্সের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং একাধিক কর্মশালায় অংশ নিচ্ছে। ২ সেপ্টেম্বর এমসিএক্স ইন্ডিয়ার আয়োজনে সিএসই প্রতিনিধিদলের আরো কয়েকটি ব্রোকারেজ অফিস পরিদর্শন করেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে ছিল টেক্সটাইল খাতের কোম্পানি মালেক স্পিনিং। ৪১ কোটি ৪৮ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৭৯ লাখ চার হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ৩৪ কোটি ৫৮ লাখ এক কোটি ৫৪ লাখ ৩৮ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে লেনদেনের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল একই খাতের শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ। লেনদেনে শীর্ষ দশের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, যথাক্রমে সায়হাম কটন মিলস, সায়হাম টেক্সটাইলস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলস, লাভেলো আইসক্রিম, আইপিডিসি, টেকনোড্রাগস ও কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স।

এ দিন ডিএসই’র মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ কোম্পানি ছিল বীমা খাতের প্রতিষ্ঠান প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে গতকাল। ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ দাম বাড়ায় এ তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স। মূল্যবৃদ্ধিতে এর পরের প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- যথাক্রমে বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, শাইন পুকুর সিরামিকস, পেনিনসুলা হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, তাক্বাফুল ইন্স্যুরেন্স, বিডি অটোকারস, দেশ গার্মেন্টস, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ও আনোয়ার গ্যালভেনাইজিং।