মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কমে গেছে : মান্না

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কমে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তবে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ছয় মাসের পরিস্থিতি গত ১৫ বছরের তুলনায় নিশ্চিতভাবেই ভালো।

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘জ্বালানি ও জীবনের নিরাপত্তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের উদ্দেশে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে বা গায়ের জোরে যেকোনো কিছু পাস করে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু মানুষ যখন বলতে শুরু করবে, ‘গায়ের জোরে আর কিছুই করতে পারবেন না’, তখন পরিস্থিতি কী হবে? এখনও সময় আছে। মানুষের সংকট নিরসন ও কল্যাণে বিকল্প পথ বের করতে হবে। গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার পথ সুগম করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

‘বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে সরকারের কোনো প্ল্যান নেই’

গত নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে মান্না বলেন, ‘আপনি যে প্ল্যানের কথা বক্তৃতায় বলেছিলেন, আমি তো তার কোনো প্রতিফলন দেখি না। মানুষকে বলুন, আপনার কী প্ল্যান আছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে কী পরিকল্পনা রয়েছে, সেটিও এখনও স্পষ্ট করেননি। আমার মনে হয়, আপনাদের কোনো প্ল্যানই নেই।’ তিনি বলেন, গত ১৫ বছর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গ্যাস খাতে আওয়ামী লীগের ‘দুঃশাসন ও নয়ছয়’ হয়েছে, তা সবাই জানে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে এ ধরনের সংকট হয়নি। তাহলে বর্তমান সরকারের ছয় মাসের মধ্যে এমন কী সংকট হলো যে সরকার বলছে, দুই বছরের আগে তা সমাধান করা সম্ভব নয়?

মান্না বলেন, দুই বছর যদি এ পরিস্থিতি চলতে থাকে, তাহলে দেশের অর্থনীতি, তৈরি পোশাক ও বস্ত্রসহ কোনো শিল্পই টিকে থাকবে না। তখন পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা সরকারকে ভাবতে হবে।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় দেশজুড়ে সৌর প্যানেল স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, ছয় মাসে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প কোনো পথ বের করতে পারেনি। দুই বছর পর দেশ কোথায় যাবে, তা এখনই ভাবতে হবে। সরকারকে বিকল্প পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। জনপ্রিয়তা সবসময় একই রকম থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

ফ্যামিলি কার্ড নিয়েও প্রশ্ন

সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন মান্না। তিনি বলেন, ছয় কোটি মানুষকে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা দিতে ৭২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এই অর্থের সংস্থানও কঠিন। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, শ্রমিক কার্ড ও কৃষক কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যভান্ডারও নেই।

তিনি বলেন, এমন ব্যক্তিও কৃষক কার্ড পেয়েছেন, যিনি প্রকৃত কৃষক নন এবং শহরে তাঁর বাড়ি রয়েছে। সঠিক তথ্যভান্ডার ছাড়া এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা কঠিন।

গুম কমিশন ও মানবাধিকার বিলের সমালোচনা

সংসদে উত্থাপিত গুম কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন বিলের সমালোচনা করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, ‘সংসদের মধ্যে যা চলছে, তার জবাব কার কাছে চাইব? গুম কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন বিল যেভাবে উত্থাপিত হয়েছে, সেভাবে তো কেউই চায়নি।’

তিনি বলেন, গুমের ঘটনায় যেসব পুলিশ ও র?্যাব সদস্য জড়িত বা দায়ী, তাদের ওপরই যদি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে সেটি কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? গণতন্ত্র চাইলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা ও পরে তা বাতিলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় হলো, উদ্বোধন ও মিষ্টি বিতরণ করা হলো, তারপর বাতিল করা হলো কেন? সংস্কারের ১৬টি অধ্যাদেশও সংসদে তোলা হলো না।’

নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হাসানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা স্ট্রিমের পরামর্শক সম্পাদক ও সাংবাদিক-কলামিস্ট হাসান মামুন, গবেষক আরিফুর রহমান, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিন্নুর চৌধুরী দিপু, দেলোয়ার হোসেন রাজা এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আনোয়ার প্রমুখ।