আসন্ন আমন ও রবি মৌসুমে কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত সার মজুদ নিশ্চিত করতে মরক্কো, সৌদি আরব ও রাশিয়া থেকে মোট এক লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন (এমটি) রাসায়নিক সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য ব্যয় হবে এক হাজার ৬৩৬ কোটি ৪২ লাখ ৩১ হাজার ৩২ টাকা।
আগামী সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির (সিসিজিপি) বৈঠকে এ সংক্রান্ত তিনটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
সরকারি নথি অনুযায়ী-মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে দুই চালানে ৬০ হাজার টন টিএসপি সার। সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস ও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে মোট এক লাখ ২৫ হাজার টন ইউরিয়া সার।
দুই লটে আগের ও পরের দুই চালানের টিএসপি সারের দামে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। প্রথম চালানে ৩০ হাজার টন আমদানি করা হবে প্রতি টন ৬৮৮ ডলার দামে। দ্বিতীয় চালানে ৩০ হাজার টন কেনা হচ্ছে ৭২৬.৩৩ ডলার দামে। অর্থাৎ দ্বিতীয় চালানে প্রতি টনের দাম ৩৮.৩৩ ডলার বা প্রায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। ফলে একই পরিমাণ সার কিনতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা।
অন্য দিকে ইউরিয়া সারের ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও রাশিয়ার সাথে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় কেনাকাটা হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় মূল্য তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এবার আমদানি হওয়া এক লাখ ৮৫ হাজার টন সার দেশের বার্ষিক মোট রাসায়নিক সারের চাহিদার মাত্র প্রায় ৩.১ শতাংশ। এর মধ্যে- ইউরিয়া : ১.২৫ লাখ টন, যা দেশের বার্ষিক ইউরিয়া চাহিদার প্রায় ৪.৮ শতাংশ। টিএসপি : ৬০ হাজার টন, যা বার্ষিক টিএসপি চাহিদার প্রায় ৭.৯ শতাংশ।
অর্থাৎ এটি পুরো বছরের চাহিদা নয়; মূলত আমন ও রবি মৌসুমের সরবরাহ নির্বিঘœ রাখতে নেয়া জরুরি আমদানি।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশে বছরে প্রায় ৫.৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন রাসায়নিক সার ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে- ইউরিয়া : ২৬ লাখ টন; ডিএপি : ১৫.২ লাখ টন; এমওপি : ১০.১ লাখ টন এবং টিএসপি : ৭.৬ লাখ টন।
বাংলাদেশে ধান চাষে প্রতি হেক্টরে গড়ে ৩৮৬.৫ কেজি রাসায়নিক সার ব্যবহার হয়, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ ব্যবহারকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দেশে ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও গ্যাস সঙ্কট ও কারখানার উৎপাদন সীমাবদ্ধতার কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার আমদানি করতে হয়। অন্য দিকে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপির প্রায় পুরো চাহিদাই বিদেশ থেকে পূরণ করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা এবং সরবরাহ ঝুঁকি বিবেচনায় আগাম আমদানির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
গত এক বছরে সরকারি ক্রয় প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ইউরিয়ার দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও ফসফেটভিত্তিক সার-বিশেষ করে টিএসপির আন্তর্জাতিক মূল্য ঊর্ধ্বমুখী। এবার একই সরবরাহকারীর কাছ থেকে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় চালানের প্রতি টনের দাম প্রায় ৫.৬ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের মূল্য, জ্বালানি ব্যয় ও সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রভাব টিএসপির দামে প্রতিফলিত হচ্ছে। ফলে আগাম ক্রয় এবং পর্যাপ্ত মজুদ নীতি আগামী মৌসুমে সারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



