- সৌদি ট্যাংকারে হামলায় ২ নাবিক নিহত
- যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে নিহত ১৯
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সামরিক সঙ্ঘাত শুরু হয়েছে, যা বিগত কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির নতুন আশঙ্কা দেখা দেয়ার পাশাপাশি এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে এবং জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে ইরানের দক্ষিণ উপকূলে মার্কিন হামলার মাধ্যমে এই সঙ্ঘাত শুরু হয়। দেশটির হরমোজগান প্রদেশের সিরিক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালানো হলে চার বছরের এক শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হন এবং অন্তত ৬৮ জন আহত হন। কুহেস্তাক, খূজেস্তান, কেরমানশাহ, লাভান দ্বীপ ও ফার্স প্রদেশসহ বিভিন্ন স্থানে মার্কিনিদের এই হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও বাসসিজ সদস্যরাও রয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেনটকম) বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করলেও ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।
মার্কিন সেনা সদরদফতরের দাবি, তারা আইআরজিসির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, জলযান ও সামরিক যোগাযোগ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনীকে সম্পূর্ণ উৎখাত করার ঘোষণা দিয়ে জর্দান, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে মাঝারি পাল্লার ‘ক্যাসল ব্রেকার’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং জর্দান ও ইরাকের এরবিলে জোরালো আক্রমণ চালানো হয়। তবে জর্দান ও বাহরাইন দাবি করেছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। জর্দানে মার্কিন সদস্য হতাহতের দাবি ইরান করলেও ওয়াশিংটন তা অস্বীকার করেছে।
এদিকে সঙ্ঘাতের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রেইট অব হরমুজে (হরমুজ প্রণালী)। সেখানে মাইন বিস্ফোরণ ও হামলায় দু’টি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর দিয়েছে আইআরজিসি। অন্যদিকে ওমান উপকূলের কাছে সৌদি আরবের জাতীয় শিপিং সংস্থা ‘বাহরি’-র তেলের ট্যাংকার ‘সিদর’-এ হামলায় দুই ফিলিপিনো নাবিক নিহত হয়েছেন। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রধান এই রুটে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
আইআরজিসির রাজনৈতিক শাখার উপপ্রধান জেনারেল ইয়াদুল্লাহ জাভানি আরব দেশগুলোকে তাদের মাটি থেকে মার্কিন সেনাদের তাড়িয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যে স্থান থেকে হামলা হবে সেখানেই পাল্টা আঘাত হানা হবে। ইরানের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসিন রেজাই শিগগিরই নতুন রণকৌশল উন্মোচনের হুমকি দিয়েছেন। এই সঙ্কটকালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
সঙ্ঘাত তীব্র হলেও দুই দেশকে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরানের ব্যাংকিং খাতের পর বিমান ও প্রযুক্তি খাতের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামরিক ও অর্থনৈতিক এই দ্বিমুখী উত্তেজনায় দুই পক্ষই শক্ত অবস্থানে থাকায় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।



