রাজনৈতিক তকমা দিয়ে হামলা-হয়রানি মেনে নেয়া হবে না : কর্নেল বাতেন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাধারণ মানুষের ওপর রাজনৈতিক দলের তকমা দিয়ে হামলা, গুলিবর্ষণ ও হয়রানি কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব:) আব্দুল বাতেন। রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের তালাত ও মিল্লাত ক্যাম্পে লাশের গোসলঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও মামলার ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল বাতেন বলেন, আমি শুধু নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের ভোটে এমপি নির্বাচিত হইনি। ১৬ আসনের সর্বস্তরের মানুষের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তার কথা বলাই আমার দায়িত্ব। আমজনতার ওপর জামায়াতের তকমা লাগিয়ে এভাবে হামলা ও গুলি চালানো কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

ঘটনার পটভূমি তুলে ধরে তিনি জানান, ক্যাম্পের বিহারি বাসিন্দাদের কেউ মারা গেলে লাশ গোসল করানোর সুনির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় খোলা রাস্তায় দাফনের প্রস্তুতি নিতে হতো। স্থানীয়দের পরামর্শে ব্যক্তিগত অর্থায়নে একটি ময়লার ভাগাড় পরিষ্কার করে গত ১১ আগস্ট থেকে ওই গোসলখানা নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ২৯ আগস্ট কাজ শেষ পর্যায়ে পেঁৗঁছালে পানির পাম্প বসানোর অজুহাতে একদল লোক বাধা দেয়। পরে বিকেলে পুলিশের মধ্যস্থতায় সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রেখে রাতে সমঝোতা বৈঠকের কথা বলা হয়। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই তিনটি মোটরসাইকেলে সশস্ত্র কয়েকজন এসে এলাকায় ফাঁকা গুলি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

পরবর্তীতে মাগরিবের পর স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানালে তাদের ওপর আবারো হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং লাঠি ও রড নিয়ে বাড়িঘর, দোকানপাট ও গোসলখানার দেয়ালে ভাঙচুর চালায়। এতে ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন।

কর্নেল বাতেন আরো জানান, বিহারি বাসিন্দারা রাস্তায় নামলে পুলিশ তাদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় বিহারি পুনর্বাসন সংসদের সভাপতি নেওয়াজ আহমেদ খানকে আটক করা হয় এবং উল্টো স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়।

হামলাকারীদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে তিনি বলেন, আক্রান্তদের মামলা পুলিশ নেয়নি, অথচ অন্য পক্ষের মামলা গ্রহণ করেছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে মামলা প্রত্যাহার, আটকের মুক্তি, অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার এবং পুলিশের পক্ষপাতহীন ভূমিকা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। এ সময় স্থানীয় জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।