কেমিক্যালমুক্ত চাল উৎপাদনে সাড়া ফেলেছে খান রাইস প্রসেসিং প্ল্যান্ট

Printed Edition

নলডাঙ্গা (নাটোর) সংবাদদাতা

প্রাকৃতিকভাবে বাড়তি পলিশ ও কোনো ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল ছাড়াই শতভাগ ফ্রেশনেস নিয়ে বাণিজ্যিক চাল উৎপাদনে উত্তরবঙ্গে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে নাটোরের নলডাঙ্গার ‘খান রাইস প্রসেসিং প্ল্যান্ট’। উপজেলার বিপ্রবেলঘড়িয়া ইউনিয়নের ত্রিমোহনী এলাকায় প্রধান সড়কের পাশেই অবস্থিত এই আধুনিক প্ল্যান্টটি উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী হালতিবিলসহ আশপাশের ধান চাষি ও ব্যবসায়ীদের জন্য কৃষির অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।

ঢাকার বিখ্যাত রিয়েল এস্টেট ও কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠান ‘টার্ন গ্রুপ’-এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১৮ সালে এটি প্রথম সর্টিং মিল হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরে ২০২৩ সালে ৪০০ মণ সক্ষমতার অটো রাইস মিলে রূপান্তর করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বর্তমানে প্রতিদিন এক হাজার ৬০০ মণ ধান প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এই বিশাল রাইস প্রসেসিং প্ল্যান্ট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে নিজস্ব ব্র্যান্ডের নামে চাল প্যাকেটজাত করছে। যা রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে চাল ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। নিজস্ব ব্র্যান্ডের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা চাল ব্যবসায়ীরাও তাদের নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের নামে এখান থেকে ধান থেকে চাল প্রসেসিং ও প্যাকেটজাত করিয়ে নিচ্ছেন। এই প্ল্যান্টকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রায় দেড়শ মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় এক থেকে দেড় হাজার কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সরাসরি এই মিলের কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত থেকে লাভবান হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, চাল উৎপাদনের পাশাপাশি এই প্ল্যান্টে আধুনিক মেশিনের মাধ্যমে অন্যান্য উপজাত থেকে হাঁস-মুরগি ও মাছের উচ্চমানের ফিডও প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত ধান থেকে সরাসরি চাল প্রসেসিং করার সুবিধা পাওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থেকে মুক্তি পাচ্ছেন।

খান রাইস প্রসেসিং প্ল্যান্টের সিইও মানিকুজ্জামান খান বলেন, বর্তমানে নাটোর, রাজশাহী, বগুড়া ও নওগাঁসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় এই চাল সরবরাহ করছি। প্রতিষ্ঠানটি সততা ও পরিচ্ছন্নতাকে প্রাধান্য দিয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে কেমিক্যালমুক্ত চাল উৎপাদন করে। এই চাল অত্যন্ত সুস্বাদু ও ফাইবারযুক্ত হওয়ায় ভোক্তা পর্যায়ে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। কেবল দেশীয় বাজার নয়, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারেও তাদের উৎপাদিত উন্নতমানের চাল রফতানি করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে।