চট্টগ্রাম বন্দরে সব কাজ সম্পন্ন হবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এবং পেপারলেস পোর্ট কার্যক্রমে পদার্পণ করেছে। টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বন্দর কর্তৃপক্ষ পণ্য খালাসের ডেলিভারি ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়ার সকল ম্যানুয়াল বা কাগজভিত্তিক কাজ সম্পূর্ণ বাদ দিয়েছে। এখন থেকে ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) আবেদন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত গেট আউট পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ শতভাগ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হবে।

সূত্রমতে, আপগ্রেডেড সিস্টেমের মূল বৈশিষ্ট্য হলো সিস্টেমের প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণ পর্যায়ক্রমিক হবে। কোনো গ্রাহক বা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের একটি ধাপ বাদ দিয়ে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পূর্ববর্তী ধাপটি সফলভাবে সম্পন্ন ও যাচাই হলে তবেই পরবর্তী ধাপটি সিস্টেম দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আনলক হবে। নিরাপত্তা ও আইনি কমপ্লায়েন্স জোরদার করতে বন্দরের টিওএস সিস্টেমকে এখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সাথে রিয়াল-টাইমে যুক্ত করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন যেকোনো মুহূর্তে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যদি কোনো কনটেইনার বা মালামাল ব্লক বা হোল্ড করতে চায়, তবে সেই ডাটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিয়াল-টাইমে পোর্টের টিওএস সিস্টেমে চলে আসবে। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এই রূপান্তরের ফলে সামুদ্রিক বাণিজ্য ইকোসিস্টেমে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর সম্পূর্ণ ‘পেপারলেস পোর্ট’ হওয়ার পথে আরো একধাপ এগিয়ে গেল; যার ফলে দাফতরিক কাজের প্রচুর কাগজ এবং প্রিন্টিং সংক্রান্ত খরচ বেঁচে যাবে এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিবের দায়িত্বে থাকা চিফ পারসোনেল অফিসার মো: নাসির উদ্দিন জানান, ডেস্কে ডেস্কে সশরীরে যাওয়ার ঝামেলা না থাকায় এখন ডকুমেন্টেশনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে, যা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ব্যবসায়ী এবং চট্টগ্রাম বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট সবার মূল্যবান সময় বাঁচিয়ে দেবে।