ঝাল ও মসলাদার খাবারে শীর্ষ ১০ দেশ

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

মসলার ব্যবহার শুধু স্বাদ বাড়ানোর বিষয় নয়। এটি একেকটি দেশের সংস্কৃতি, জলবায়ু আর ইতিহাসের জীবন্ত প্রতিফলন। বিশ্বের এমন ১০টি দেশ যেখানে মসলাই রন্ধনশৈলীর প্রাণ। ঝাল ও মসলাদার খাবারে এরা সেরা।

থাইল্যান্ড : থাইল্যান্ডে রাস্তার ধারের ‘সোম টাম’ হোক বা বিখ্যাত ‘টম ইয়াম’ স্যুপ এক গ্রাসেই পাবেন মিষ্টি, টক, নোনতা ও ‘বার্ডস আই চিলি’র তীব্র ঝাল। যারা থাই স্পাইসি খাবার পরখ করতে চান, তাদের জন্য এটি এক অগ্নিপরীক্ষার চেয়ে কম কিছু নয়।

মেক্সিকো : মেক্সিকান খাবারে ঝালের চেয়ে স্বাদের স্তরের ওপর বেশি জোর দেয়া হয়। চিপোটলে থেকে হাবানেরো নানা পদের শুকনো ও ধোঁয়াটে মরিচ ব্যবহার করে রান্না হয়। তাদের সালসা বা টাকোর ঝাল প্রথম কামড়েই আক্রমণ করবে না, বরং খাওয়ার অনেকক্ষণ পর পর্যন্ত এর রেশ জিভে লেগে থাকবে।

ভারত : এখানে ঝাল কেবল মরিচের ওপর নির্ভর করে না, বরং ধনিয়া, জিরা, এলাচ ও লবঙ্গের মতো নানা পদের সংমিশ্রণে তৈরি হয় স্বাদের গভীরতা। একদিকে যেমন অন্ধ্রপ্রদেশের তীব্র ঝাল রয়েছে, অন্যদিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘ভূত জলোকিয়া’ বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মরিচ হিসেবে পরিচিত।

দক্ষিণ কোরিয়া : কোরিয়ান রান্নার প্রাণভোমরা হলো ‘গোচুজাং’। এই গাঁজানো মরিচের পেস্ট খাবারে একই সাথে ঝাল, মিষ্টি স্বাদ এনে দেয়। কিমচির মতো খাবারে যে লাল টকটকে রঙ দেখা যায়, তার ঝাল শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ করে তোলে। এমনকি বর্তমানে বিশ্বখ্যাত ‘বুলদাক’ বা ঝাল রামেন এই দেশেরই উপহার।

চীন (সিচুয়ান) : সিচুয়ান রন্ধনশৈলী আলাদা। সিচুয়ান গোলমরিচ ও লাল মরিচের তেল মিলে জিভে এক অদ্ভুত শিহরণ তৈরি করে, যা সাময়িকভাবে জিভ ও মুখকে অবশ করে দেয়। ‘মাপো তোফু’র স্বাদ যারা একবার নিয়েছেন, তারা এই শিহরণ কখনো ভুলবেন না।

ইথিওপিয়া : আফ্রিকান এই দেশের খাবারের মূল রহস্য ‘বেরবেরে’ নামক মশলার মিশ্রণ। এটি মূলত মরিচ, রসুন, আদা ও বিভিন্ন লতাপাতার এক চমৎকার মেলবন্ধন। ডোরো ওয়াটের মতো স্টুগুলো যেমন পুষ্টিকর, তেমনি এর ঝাল স্বাদের গভীরতা আপনাকে মুগ্ধ করবে।

জ্যামাইকা : ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের এই দেশটিতে ব্যবহৃত হয় ‘স্কচ বনেট’ মরিচ। এটি যেমন ঝাল, তেমনই এর সুগন্ধও দারুণ। তাদের বিখ্যাত ‘জার্ক চিকেন’ মূলত এই মরিচ আর ভেষজ মসলার ধোঁয়াটে স্বাদের সংমিশ্রণ, যা ঝালপ্রেমীদের তালিকায় ওপরের দিকেই থাকে।

পেরু : খাবারে ব্যবহার করা হয় ‘আজি আমারিলো’ নামক এক ধরনের হলুদ মরিচ। এটি অতি মাত্রার ঝাল না হলেও এর একটি নিজস্ব উষ্ণতা রয়েছে। তাদের ‘সেভিচে’ বা মাছের পদে এই মরিচ এক অসাধারণ সতেজতা যোগ করে।

মালয়েশিয়া : মালয়েশীয় রন্ধনশৈলীতে বিভিন্ন দেশের প্রভাব থাকলেও ‘সাম্বাল’ (মরিচের চাটনি) একে অনন্য করে তুলেছে। নারকেল দুধ দিয়ে তৈরি ভাত ‘নাসি লেমাক’-এর সাথে এই ঝাঁঝালো সাম্বাল এক স্বর্গীয় স্বাদ তৈরি করে।

নাইজেরিয়া : তাদের ‘পেপার স্যুপ’ বা স্টুগুলোতে প্রচুর পরিমাণে কাঁচা মরিচ ব্যবহার করা হয়। যারা প্রকৃতপক্ষেই ঝাল সহ্য করার ক্ষমতা যাচাই করতে চান, তাদের জন্য নাইজেরীয় রান্না এক আদর্শ জায়গা।