যেকোনো সময় ঢাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি

Printed Edition

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার নতুন কমিটিও যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একই সাথে দুই কমিটি ঘোষণার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও নেতৃত্ব বাছাইয়ে অপেক্ষাকৃত তরুণ, নিয়মিত শিক্ষার্থী, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতাদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান, গাজী মোহাম্মদ আল-আমীন ও সহসাধারণ সম্পাদক মো: মাহমুদুল হাসানের নাম আলোচনায় রয়েছে। একই সাথে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের বিজয় একাত্তর হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বি এম কাওসার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফ খান ও আলমগীর হোসেন আলমের নামও সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচনায় আছে।

এ ছাড়া ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের যুগ্ম সম্পাদক বজলুর রহমান বিজয় ও আবিদুল ইসলাম খান; ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াত মো: জুলফিকার জেসান, প্রচার সম্পাদক তানভীর হাসান ও শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মাহমুদুল হাসানের নাম রয়েছে আলোচনায়।

২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক এবং ক্রীড়া সম্পাদক সাইফুল্লাহ সাইফও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের তানভীর বারী হামিমের নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত জিএস প্রার্থী ছিলেন। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কমল মেডি এইড’ প্রতিষ্ঠার কারণে তার পরিচিতি তৈরি হয়েছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান।

এর আগে ২০২৪ সালের মার্চে গণেশ চন্দ্র রায় সাহসকে সভাপতি ও নাহিদুজ্জামান শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য ঢাবি ছাত্রদলের কমিটি দেয়া হয়েছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা শুরু হলেও রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

দলীয় সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ায় ঢাবি শাখার নতুন কমিটি নিয়েও আলোচনা জোরালো হয়েছে। সাধারণত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোতেও নতুন নেতৃত্ব দেয়া হয়।

নেতৃত্ব বাছাইয়ে এবার সাংগঠনিক পদ বা গ্রুপের সমীকরণের পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, দলের প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। নিয়মিত শিক্ষার্থী, বিতর্কমুক্ত ও শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়েও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গুরুত্ব দিচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।