ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাবেক এমপি হারুন অর রশিদের ইন্তেকাল, আজ দাফন

Printed Edition

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদের প্রথম নামাজে জানাজা গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার বাদ জোহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিশিষ্টজন এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী অংশ নেন।

জানাজা শেষে মরহুমের প্রতি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এবং বিএনপির পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন এবং শেষ কয়েক দিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক কন্যা, জামাতা, পুত্রবধূ, দুই ভাইসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, শুভাকাক্সক্ষী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা রেখে গেছেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদ ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে নির্বাচিত হন।

সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরে চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভায় ১৯৯৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৯৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান, জাতীয় সংসদের হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির একজন সদস্য ছিলেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কর্মদক্ষতা, সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।